রাঙামাটি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আজ (২ মে, শনিবার) দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)-এর উদ্যোগে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও প্রশিক্ষকবৃন্দ
অনুষ্ঠানে নেতৃত্বের গুণাবলি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজু, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. নূর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তাদের মূল বক্তব্য
কর্মশালায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার বিষয় তুলে ধরে বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন।
জনতাত্ত্বিক পরিসংখ্যান ও বৈষম্য
বক্তারা বলেন, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার ৫২.০৬ শতাংশ বাঙালি হলেও দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী সুবিধা ভোগ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা পিছিয়ে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা
১৯৮৪ সাল থেকে উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে উপজাতিদের জন্য বিশেষ কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। বর্তমানে বছরে প্রায় ৩২৫ জন উপজাতি শিক্ষার্থী বিশেষ সুবিধায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পেলেও একই এলাকার অনগ্রসর বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোনো কোটা নেই বলে তারা অভিযোগ করেন।
বৃত্তি প্রদানে অসমতা
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানে বৈষম্য রয়েছে বলে বক্তারা দাবি করেন। তাদের মতে, বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত বৃত্তি বরাদ্দ দেওয়া হয় না।
নিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতার অভিযোগ
বক্তারা আরও বলেন, একটি কুচক্রী মহল পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ-এর মতো সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সহিংসতার অভিযোগ তোলা হয়।
পিসিসিপি’র লক্ষ্য ও আহ্বান
বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিরা বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) একটি দেশপ্রেমিক ছাত্র সংগঠন, যা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার ও দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় কাজ করছে।
শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হয় এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























