দেশের সব শ্রেণির মানুষের জন্য নয়, বরং কৃষি, সেচ ও গণপরিবহন খাতে সীমিত আকারে জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তার মতে, সর্বজনীন ভর্তুকির সুবিধা বর্তমানে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তরাও ভোগ করছেন, অথচ সরকারের পক্ষে তা দীর্ঘমেয়াদে বহন করা সম্ভব নয়।
শনিবার (০২ মে) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এতে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও ঢাকা কলেজের বিতার্কিকরা অংশ নেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি এমনভাবে দিতে হবে, যাতে তা সরাসরি উৎপাদন ও জনসেবামূলক খাতে কাজে লাগে। কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনে ভর্তুকি দিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমবে।
জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলেও সরকার অনেক সময় দেশে দাম কমায়নি। বরং মুনাফা করেছে। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী প্রতি মাসে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আগামী বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রণয়ন করতে হবে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত করতে বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য নীতিমালা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যথেষ্ট নয়। রপ্তানি আয় কমছে, শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ কমে জিডিপির ২২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগও আশানুরূপ নয়। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ও দেশে জ্বালানির দাম বেড়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে নিত্যপণ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর পাশাপাশি ওএমএস ও টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ড. ফাহমিদা খাতুন শেষ পর্যন্ত সরকারের প্রতি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান। তার মতে, এমন বাজেট হতে হবে যাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, কর্মসংস্থান বাড়ে এবং বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 
























