বাংলাদেশ ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের

ঢাবি শিক্ষার্থী মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, ভিসির কাছে ৭ দফা দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) বরাবর সাত দফা দাবি পেশ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৭ দফা দাবিগুলো হলো—

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগকে অবিলম্বে সুদীপ চক্রবর্তী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট বিবৃতি দিতে হবে। প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিভাগের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

২. নৈতিক স্খলন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত সুদীপ চক্রবর্তীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করতে হবে।

৩. বিভাগে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ফলাফল ও শিক্ষক পদের প্রলোভন দেখানো এবং তদবির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে স্থায়ীভাবে অপসারণের বিধান নিশ্চিত করতে হবে।

৪. মিমোর পরিবারের ওপর মামলা প্রত্যাহারে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক চাপ না আসে তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

৫. ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে সুদীপ চক্রবর্তীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।

৬. কোনো শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে অশালীন শব্দচয়ন বা বার্তা প্রেরণ নিষিদ্ধ করতে হবে। একাডেমিক কাজের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন ও শিক্ষক মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ গমনে অনাপত্তিপত্র (NOC) প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় তারা আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঢাবি শিক্ষার্থী মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, ভিসির কাছে ৭ দফা দাবি

প্রকাশিত: ১০:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) বরাবর সাত দফা দাবি পেশ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৭ দফা দাবিগুলো হলো—

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগকে অবিলম্বে সুদীপ চক্রবর্তী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট বিবৃতি দিতে হবে। প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিভাগের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

২. নৈতিক স্খলন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত সুদীপ চক্রবর্তীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করতে হবে।

৩. বিভাগে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ফলাফল ও শিক্ষক পদের প্রলোভন দেখানো এবং তদবির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে স্থায়ীভাবে অপসারণের বিধান নিশ্চিত করতে হবে।

৪. মিমোর পরিবারের ওপর মামলা প্রত্যাহারে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক চাপ না আসে তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

৫. ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে সুদীপ চক্রবর্তীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।

৬. কোনো শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে অশালীন শব্দচয়ন বা বার্তা প্রেরণ নিষিদ্ধ করতে হবে। একাডেমিক কাজের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন ও শিক্ষক মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ গমনে অনাপত্তিপত্র (NOC) প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় তারা আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।