পহেলা বৈশাখ মানেই পান্তা-ইলিশের ধুম। তবে পান্তা ভাত কেবল উৎসবের খাবারেই সীমাবদ্ধ নয়; পুষ্টিবিদদের মতে, এটি সারা বছর খাওয়ার মতো একটি আদর্শ খাবার। বিশেষ করে তীব্র দাবদাহে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে পান্তা ভাতের বিকল্প নেই। ভাতের গাজন বা ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ার কারণে এটি সাধারণ ভাতের চেয়েও বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন হয়ে ওঠে।
কেন পান্তা ভাত পুষ্টিকর
রান্না করা ভাতে পানি দিয়ে ১০–১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে গাজন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় ভাতে থাকা আয়রন, ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের কার্যকারিতা বেড়ে যায়, যা শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
তীব্র গরমে পান্তা ভাতের ৫টি উপকারিতা
১. ক্লান্তি ও অনিদ্রা দূর করে
ফারমেন্টেশনের ফলে পান্তা ভাতে ভিটামিন বি-১২ এর পরিমাণ বাড়ে, যা ক্লান্তি কমায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রেখে ভালো ঘুমে সাহায্য করে।
২. হাড় ও রক্তের সুরক্ষা
পান্তা ভাতে আয়রন ও ক্যালশিয়াম থাকে, যা রক্তাল্পতা কমাতে এবং হাড় শক্তিশালী করতে সহায়ক।
৩. পেটের সমস্যায় উপকারী
প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
এটি উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে ধরা হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
৫. শরীর ঠাণ্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে
পান্তা ভাতের জলীয় অংশ শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে।
উপকারিতা থাকলেও পান্তা ভাত তৈরির সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। সঠিকভাবে তৈরি পান্তা ভাত গরমে শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
অনলাইন ডেস্ক 

























