ইসলামের ইতিহাসে ত্যাগ, সাহস ও ঈমানি দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাখরামাহ রা.। আবু মুহাম্মদ উপনামে পরিচিত এই সাহাবি ইসলামের প্রাথমিক যুগেই ঈমান গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জাফর ইবনে আবু তালিব রা.-এর নেতৃত্বে হাবশায় হিজরত করেন এবং কিছুদিন পর মক্কায় ফিরে এসে আবার মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় পৌঁছে প্রথমে কুলসুম ইবনে হিদম রা.-এর আতিথ্য গ্রহণ করেন। এরপর রাসুল সা. তাঁর সঙ্গে বনু বায়াযাহ গোত্রের ফারওয়াহ ইবনে আমর রা.-এর ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাখরামাহ রা. বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৩০ বছর। বদরের পর রাসুল সা.-এর সঙ্গে অন্যান্য যুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। আল্লাহর পথে শাহাদাত অর্জনের গভীর আকাঙ্ক্ষা তাঁর অন্তরে সবসময় জাগ্রত ছিল। তিনি নিয়মিত দোয়া করতেন, যেন তাঁর শরীর আল্লাহর পথে সংগ্রামে ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার পরই মৃত্যু আসে।
রাসুল সা.-এর ইন্তেকালের পর মুরতাদদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সংগ্রামে তিনি আবারও ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১২ হিজরিতে সংঘটিত ইয়ামামার যুদ্ধে রমজান মাসে রোজা অবস্থায় তিনি বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. তাঁকে দেখতে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। আব্দুল্লাহ রা. দুর্বল কণ্ঠে ইফতারের সময় হয়েছে কি না জানতে চান এবং পানি চেয়ে নেন। কিন্তু পানি পৌঁছানোর আগেই তিনি শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেন।
শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৪১ বছর। তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। ত্যাগ ও ঈমানি দৃঢ়তার এই অনন্য দৃষ্টান্ত ইসলামী ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
kalprakash.com/SS
কাল প্রকাশ ডেস্ক 

























