সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের প্রকোপ বাড়ায় অনেকেই যেকোনো ত্বকের র্যাশকে হাম বলে ধরে নিচ্ছেন। মার্চ থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ৪৬২৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যাদের মধ্যে মাত্র ৮২৬ জনের হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে।
র্যাশ একটি সাধারণ উপসর্গ, যা বিভিন্ন রোগে দেখা যেতে পারে। ভাইরাল সংক্রমণ যেমন রুবেলা বা চিকেনপক্স, ডেঙ্গু জ্বর, অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, এমনকি কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ত্বকে র্যাশ হতে পারে। তাই শুধু র্যাশ দেখেই হাম নিশ্চিত করা যায় না।
হাম রোগের ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষণ একসঙ্গে দেখা যায়। যদি শুধু র্যাশ থাকে কিন্তু এসব উপসর্গ না থাকে, তাহলে তা অন্য কোনো রোগও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভুলভাবে হাম ধরে নেওয়া যেমন অপ্রয়োজনীয় ভীতি তৈরি করে, তেমনি প্রকৃত রোগ নির্ণয়ে দেরিও হতে পারে। শরীরে কোনো র্যাশ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে বরং নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাম বনাম সাধারণ র্যাশের পার্থক্য
হাম (Measles):
এ ক্ষেত্রে র্যাশ ওঠার অন্তত ৩-৪ দিন আগে থেকেই তীব্র জ্বর (১০৩–১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) থাকে। হামের সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো ‘কপলিক স্পট’। র্যাশ ওঠার ১–২ দিন আগে শিশুর গালের ভেতরের দিকে, মাড়ির পাশে লবণের দানার মতো ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায়, যা শুধু হামের ক্ষেত্রেই ঘটে।
হামের ক্ষেত্রে র্যাশের সঙ্গে সাধারণত তিনটি উপসর্গ থাকে—কাশি (Cough), সর্দি (Coryza) এবং চোখ লাল হওয়া (Conjunctivitis)। সাধারণ অ্যালার্জি বা অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণে এই তিনটি লক্ষণ একসঙ্গে সাধারণত দেখা যায় না।
রোজোলা (Roseola):
শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি হয়। সাধারণত ৩–৫ দিন প্রচণ্ড জ্বরের পর জ্বর হঠাৎ কমে গেলে শরীরে হালকা গোলাপি রঙের ছোট ছোট দাগ বা র্যাশ দেখা দেয়। এগুলো সাধারণত চুলকায় না এবং কয়েক ঘণ্টা থেকে ১–২ দিনের মধ্যে সেরে যায়।
জলবসন্ত (Chickenpox):
এর র্যাশ পানিভরা ফোস্কার মতো হয় এবং শরীরের মাঝামাঝি অংশে (বুক-পিঠে) বেশি দেখা যায়। এতে প্রচণ্ড চুলকানি থাকে এবং কয়েকদিন পর ফোস্কাগুলো শুকিয়ে খোসা পড়ে যায়। একই সময়ে শরীরে নতুন ও পুরোনো দানা একসঙ্গে দেখা যেতে পারে।
স্কারলেট ফিভার (Scarlet Fever):
এই জ্বরে র্যাশ শিরিষ কাগজের মতো খসখসে হয়, যা সাধারণত ঘাড় ও বুক থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। শরীরের ভাঁজে গাঢ় লাল রেখা দেখা যায় এবং মুখ লাল হলেও ঠোঁটের চারপাশ ফ্যাকাসে থাকে। প্রায় এক সপ্তাহ পর র্যাশ কমে গেলে ত্বক খোসা উঠতে শুরু করে।
অ্যালার্জিক র্যাশ (Allergic Rash):
এটি সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ দেখা দেয়। র্যাশ চাকা চাকা, লালচে এবং প্রচণ্ড চুলকানিযুক্ত হয়।
ডেঙ্গু র্যাশ (Dengue):
ডেঙ্গু জ্বরে র্যাশ সাধারণত জ্বরের ২–৫ দিন পর দেখা দেয়। এটি লালচে ছোপ বা জালের মতো হয়, যা চাপ দিলে কিছুটা সাদা হয়ে যায়। একে অনেক সময় বলা হয় “সাদা সমুদ্রে লাল দ্বীপ”। এর সঙ্গে প্রচণ্ড শরীর ব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা থাকে।
রুবেলা (Rubella):
রুবেলার র্যাশ হালকা গোলাপি রঙের হয়, যা প্রথমে মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সাধারণত তিন দিন স্থায়ী হয়। এর সঙ্গে লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া বা হালকা জ্বর থাকতে পারে।
শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দিলেই তা হাম ভেবে আতঙ্কিত হওয়া ঠিক নয়। র্যাশের ধরন, প্রকাশের সময় এবং অন্যান্য উপসর্গ (যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, চোখের অবস্থা বা লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া) বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় এটি হাম, স্কারলেট জ্বর, ডেঙ্গু নাকি অন্য কোনো সাধারণ অ্যালার্জি। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য লক্ষণের পার্থক্য বোঝা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 
























