পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামের শাকিল হোসেন ওরফে আশিক নামে এক যুবকের অপমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং মামলা থেকে রেহাই দিতে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার শুরুতে অভিযুক্ত একজন ওই মামলার সাক্ষী হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সোহেল হোসেন, ইউসুফ আলী, মনির হোসেনসহ শতাধিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
অপমৃত্যু মামলার সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে শাকিল ওরফে আশিক পাঁচ বছর আগে চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। ট্রলি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। বিয়ের পর থেকে শাকিল ওরফে আশিক শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সাংসারিক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এরই জেরে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন স্বামী-স্ত্রী। সকাল ৬টার দিকে শাকিল ওরফে আশিককে ঘরের ডাবের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার স্ত্রী রিমা। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন মৃত শাকিল ওরফে আশিকের পিতা জিয়াউর রহমান। মামলা নম্বর-৬, তারিখ ২৮/০২/২০২৬। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলে পারিবারিক দ্বন্দ্বে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সোহেল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনার পর মৃত শাকিল ওরফে আশিকের পরিবার থানায় একটি অভিযোগ দেয়, যেখানে মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের খাঁর ছেলে আরিফ খাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অথচ গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে মৃত আশিকের মা শামিমা বিবি বাদী হয়ে পাবনা আমলি আদালত-৪-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেখানে সেই আরিফকে সাক্ষী করা হয়েছে। আর ওই মামলায় আমাদের কয়েকজনকে মিথ্যা অভিযোগে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর থেকে আরিফ, তার ভাই কিরণ ও তারা মিয়া মামলা থেকে আমাদের নাম বাদ দিতে ৩ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় তারা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, মূলত একটি জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিরণ খাঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে কিরণ ও তার ভাই আরিফ মৃত আশিকের পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে তাদের দিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করিয়েছে। এখন সেই মামলা থেকে আমাদের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে ৩ লাখ টাকা দাবি করছে। আবার আগের অভিযোগে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত আরিফকেই আমাদের বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। এখানেই পরিষ্কার যে মামলাটি মিথ্যা ও সাজানো। আমাদের ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তি চাই।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, দুই ভাই কিরণ ও আরিফ এবং একই এলাকার মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে তারা মিয়ার একটি গ্রুপ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তারা ভোল পাল্টে বিএনপির সঙ্গে মিশে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সবাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন কিরণ খাঁ বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। মামলা করেছে ছেলের বাবা, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমরা তাদের কাছে কোনো টাকা দাবি করিনি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং তারাই গতকাল মঙ্গলবার বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
kalprakash.com/SAS
পাবনা প্রতিনিধি 




















