বাংলাদেশ ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

১০ মিনিটের ভয়াবহ হামলা: লেবাননে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের আঘাত, নিহত শতাধিক

মাত্র ১০ মিনিটেই ২৫৪ জনকে হত্যা করে ইসরায়েল (সংগৃহীত ছবি)

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার বিকেলে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।

তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা এখনও চূড়ান্ত নয়। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে বৈরুতে, যেখানে অন্তত ৯১ জন নিহত হয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বৈরুতে পরপর অন্তত পাঁচটি হামলা চালানো হয়। এতে শহরের আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলা। এই অভিযানে বৈরুত, বেকা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর শতাধিক কমান্ড সেন্টার ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়।

হামলার পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের মানারা কিবুতজে রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, লেবানন ও এর জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে বুধবারকে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর দুই দিন আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ তেহরানের সমর্থনে ইসরায়েলে আক্রমণ চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ইসরায়েল লেবাননে পূর্ণাঙ্গ বিমান ও স্থল অভিযান জোরদার করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে ভবন ধ্বংস হয়ে বহু মানুষ আটকা পড়েন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে অনেক আহতকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই হামলাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে বলেন, লেবাননে যে মাত্রায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই অবস্থান জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে আগে থেকেই হামলা বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু ইসরায়েল সেই সমঝোতা লঙ্ঘন করে লেবাননজুড়ে হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
১০ মিনিটের ভয়াবহ হামলা: লেবাননে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের আঘাত, নিহত শতাধিক
জনপ্রিয় সংবাদ

১০ মিনিটের ভয়াবহ হামলা: লেবাননে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের আঘাত, নিহত শতাধিক

প্রকাশিত: ১০:৫৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার বিকেলে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।

তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা এখনও চূড়ান্ত নয়। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে বৈরুতে, যেখানে অন্তত ৯১ জন নিহত হয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বৈরুতে পরপর অন্তত পাঁচটি হামলা চালানো হয়। এতে শহরের আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলা। এই অভিযানে বৈরুত, বেকা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর শতাধিক কমান্ড সেন্টার ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়।

হামলার পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের মানারা কিবুতজে রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, লেবানন ও এর জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে বুধবারকে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর দুই দিন আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ তেহরানের সমর্থনে ইসরায়েলে আক্রমণ চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ইসরায়েল লেবাননে পূর্ণাঙ্গ বিমান ও স্থল অভিযান জোরদার করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে ভবন ধ্বংস হয়ে বহু মানুষ আটকা পড়েন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে অনেক আহতকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই হামলাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে বলেন, লেবাননে যে মাত্রায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই অবস্থান জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে আগে থেকেই হামলা বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু ইসরায়েল সেই সমঝোতা লঙ্ঘন করে লেবাননজুড়ে হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
১০ মিনিটের ভয়াবহ হামলা: লেবাননে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের আঘাত, নিহত শতাধিক