২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সিদ্ধান্ত, দক্ষতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছিল।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, উন্নয়ন খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও চিকিৎসা বা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সরাসরি অভিজ্ঞতার অভাব তার কাজে প্রভাব ফেলেছিল। ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক প্রভাব ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রেই পরামর্শ উপেক্ষা করা হতো। এতে প্রশাসনিক সমন্বয় ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, বদলি ও নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যেখানে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে বদলি, নিয়োগ ও ক্রয় কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করা হতো। কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসে।
দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আদালত থেকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে টিকাদান কর্মসূচিতেও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে অপারেশনাল প্ল্যান ব্যবস্থা বাতিলের পর হামসহ একাধিক রোগের টিকার সংকট দেখা দেয়। এতে টিকাদানের হার নেমে যায় এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্ব এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সমালোচনা করা হয় এবং এক পর্যায়ে তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নূরজাহান বেগম বা সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























