বাংলাদেশ ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের
প্রতিশ্রুতি রাখলো বিএনপি সরকার

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফে সরকারের সিদ্ধান্ত, উপকৃত হবেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক চাপ কমানো এবং কৃষি খাতের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সরকারের এ সিদ্ধান্তের আওতায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের মোট বকেয়া সুদসহ পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এই অর্থই মওকুফের আওতায় আসবে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি এ সিদ্ধান্তের সুফল পাবেন। এতে করে ঋণের দায়মুক্ত হয়ে তারা নতুন মৌসুমে চাষাবাদে মনোযোগী হতে পারবেন। একই সঙ্গে উন্নত বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ঋণ মওকুফের ফলে কৃষকদের ক্রেডিট প্রোফাইল উন্নত হবে, ফলে তারা ভবিষ্যতে স্বল্প সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ গ্রহণে সক্ষম হবেন। এতে করে উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপ কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে, আমদানি নির্ভরতা কমাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে তৎকালীন সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ-আসল মওকুফের উদ্যোগ নিয়েছিল, যা সে সময় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

প্রতিশ্রুতি রাখলো বিএনপি সরকার

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফে সরকারের সিদ্ধান্ত, উপকৃত হবেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক

প্রকাশিত: ০৫:০২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক চাপ কমানো এবং কৃষি খাতের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সরকারের এ সিদ্ধান্তের আওতায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের মোট বকেয়া সুদসহ পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এই অর্থই মওকুফের আওতায় আসবে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি এ সিদ্ধান্তের সুফল পাবেন। এতে করে ঋণের দায়মুক্ত হয়ে তারা নতুন মৌসুমে চাষাবাদে মনোযোগী হতে পারবেন। একই সঙ্গে উন্নত বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ঋণ মওকুফের ফলে কৃষকদের ক্রেডিট প্রোফাইল উন্নত হবে, ফলে তারা ভবিষ্যতে স্বল্প সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ গ্রহণে সক্ষম হবেন। এতে করে উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপ কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে, আমদানি নির্ভরতা কমাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে তৎকালীন সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ-আসল মওকুফের উদ্যোগ নিয়েছিল, যা সে সময় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।