বাংলাদেশ ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পেটের সমস্যায় বদল করুন যেসব অভ্যাস, মিলতে পারে স্বস্তি

গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বদহজম ও পেট ফাঁপার সমস্যা বর্তমানে অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কেউ ওষুধের ওপর নির্ভর করেন, কেউ আবার ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন।

অনিয়মিত খাবার সময়ই বড় সমস্যা

চিকিৎসকদের মতে, হজম প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট ছন্দে কাজ করে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শরীরের হজমক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই দেরিতে খাবার খেলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেকে কাজের ব্যস্ততায় দুপুরের খাবার ২টা বা ৩টার পর খান। এতে খাবার হজম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে এবং গ্যাস, অম্বল ও পেট ভারের সমস্যা বাড়ে।

রাতের দেরি করে খাবার খাওয়া ক্ষতিকর

রাতে হজমক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। অনেকেই রাত ৯–১০টার দিকে ভারী খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন, যা হজমে বাধা সৃষ্টি করে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঘুমানোর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত।

দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস বদলাতে হবে

খাবার ঠিকভাবে চিবিয়ে না খেলে হজমে চাপ পড়ে। দ্রুত খাওয়ার ফলে খাবারের সঙ্গে বাতাসও পেটে ঢুকে যায়, যাকে বলা হয় এয়ারোফেজিয়া। এতে গ্যাস, ঢেকুর ও পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি খাবার ২৫–৩০ বার চিবিয়ে খাওয়া উচিত।

রাতে কাঁচা খাবারে সতর্কতা

সালাদ বা কাঁচা সবজি স্বাস্থ্যকর হলেও যাদের গ্যাস বা বদহজমের সমস্যা আছে, তাদের জন্য রাতে কাঁচা খাবার হজম করা কঠিন হতে পারে। তাই রাতে ভাপানো বা সেদ্ধ সবজি খাওয়াই ভালো।

খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শোয়া নয়

খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বরং ১০ মিনিট ধীরে হাঁটাহাঁটি করলে হজমে সহায়তা পাওয়া যায় এবং গ্যাসের সমস্যা কমে।

ঠান্ডা পানি হজমে বাধা দিতে পারে

খাবারের সময় বা পরে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান হজম এনজাইমের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি পান করাই উত্তম।

উপসংহার

পেটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় কোনো ওষুধ নয়, বরং ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনই সবচেয়ে কার্যকর। সময়মতো খাওয়া, ধীরে চিবিয়ে খাওয়া, রাতের খাবার আগেভাগে খাওয়া এবং খাওয়ার পর হাঁটার মতো সহজ নিয়ম মেনে চললে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

পেটের সমস্যায় বদল করুন যেসব অভ্যাস, মিলতে পারে স্বস্তি

প্রকাশিত: ০৫:৪৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বদহজম ও পেট ফাঁপার সমস্যা বর্তমানে অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কেউ ওষুধের ওপর নির্ভর করেন, কেউ আবার ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন।

অনিয়মিত খাবার সময়ই বড় সমস্যা

চিকিৎসকদের মতে, হজম প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট ছন্দে কাজ করে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শরীরের হজমক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই দেরিতে খাবার খেলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেকে কাজের ব্যস্ততায় দুপুরের খাবার ২টা বা ৩টার পর খান। এতে খাবার হজম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে এবং গ্যাস, অম্বল ও পেট ভারের সমস্যা বাড়ে।

রাতের দেরি করে খাবার খাওয়া ক্ষতিকর

রাতে হজমক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। অনেকেই রাত ৯–১০টার দিকে ভারী খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন, যা হজমে বাধা সৃষ্টি করে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঘুমানোর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত।

দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস বদলাতে হবে

খাবার ঠিকভাবে চিবিয়ে না খেলে হজমে চাপ পড়ে। দ্রুত খাওয়ার ফলে খাবারের সঙ্গে বাতাসও পেটে ঢুকে যায়, যাকে বলা হয় এয়ারোফেজিয়া। এতে গ্যাস, ঢেকুর ও পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি খাবার ২৫–৩০ বার চিবিয়ে খাওয়া উচিত।

রাতে কাঁচা খাবারে সতর্কতা

সালাদ বা কাঁচা সবজি স্বাস্থ্যকর হলেও যাদের গ্যাস বা বদহজমের সমস্যা আছে, তাদের জন্য রাতে কাঁচা খাবার হজম করা কঠিন হতে পারে। তাই রাতে ভাপানো বা সেদ্ধ সবজি খাওয়াই ভালো।

খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শোয়া নয়

খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বরং ১০ মিনিট ধীরে হাঁটাহাঁটি করলে হজমে সহায়তা পাওয়া যায় এবং গ্যাসের সমস্যা কমে।

ঠান্ডা পানি হজমে বাধা দিতে পারে

খাবারের সময় বা পরে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান হজম এনজাইমের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি পান করাই উত্তম।

উপসংহার

পেটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় কোনো ওষুধ নয়, বরং ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনই সবচেয়ে কার্যকর। সময়মতো খাওয়া, ধীরে চিবিয়ে খাওয়া, রাতের খাবার আগেভাগে খাওয়া এবং খাওয়ার পর হাঁটার মতো সহজ নিয়ম মেনে চললে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

kalprakash.com/SS