নয়াদিল্লির অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রায় ৬৫ শতাংশ নিজেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে ১৯০ জন (৬৫ শতাংশ) ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি। ২০২১ সালের তুলনায় এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এডিআর জানায়, এর মধ্যে ১৭০ জন (৫৮ শতাংশ) গুরুতর ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে খুন, হত্যাচেষ্টা এবং নারী নির্যাতনসংক্রান্ত অভিযোগ। ১৪ জনের বিরুদ্ধে খুন এবং ৫৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ৬৩ জন বিধায়ক নারী নির্যাতনের মামলার কথাও স্বীকার করেছেন, যার মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজেপির ২০৬ জন বিধায়কের মধ্যে ১৫২ জন (৭৪ শতাংশ) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জনের মধ্যে ৩৪ জন (৪৩ শতাংশ) ফৌজদারি মামলার তথ্য দিয়েছেন। কিছু ছোট দলের সব বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের দুইজন বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে ৬১ শতাংশ কোটিপতি, যা ২০২১ সালের তুলনায় বেশি। মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,০৯১ কোটি টাকা, যেখানে প্রতিজনের গড় সম্পদ ৩.৭৩ কোটি টাকা।
শিক্ষাগত যোগ্যতার হিসাবে ৬৩ শতাংশ বিধায়ক স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষিত। বয়সের ক্ষেত্রে অধিকাংশ (৬৩ শতাংশ) ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
এছাড়া নারী প্রতিনিধিত্বের হার ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় সামান্য কম।
এডিআর বলছে, রাজনীতিতে অপরাধমূলক মামলার উপস্থিতি ও সম্পদের কেন্দ্রীকরণ বাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক প্রবণতা।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 
























