বাংলাদেশ ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের

সৃজনে কবিতা পাঠ ও ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থের পাঠপর্যালোচনা

শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন সৃজনের আয়োজনে কবি আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতা পাঠ এবং কবি লুব্ধক মাহবুবের ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে পাঠপর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সৃজনের মিরপুর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক ও গল্পকার প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক এবং গবেষক প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ।

আনোয়ারুল হক বলেন, লুব্ধক মাহবুব মূলত প্রেমের কবি। প্রবাসজীবনের টানাপোড়েন তার কবিতার অন্যতম অনুষঙ্গ। ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থে কবির পরিণত মনন ও শব্দচয়নের দক্ষতা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। তার কবিতায় দেশপ্রেম, রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গও স্থান পেয়েছে।

প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ বলেন, ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ লুব্ধক মাহবুবের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ এবং এ গ্রন্থে তিনি আগের চেয়ে আরও পরিণত কবির পরিচয় দিয়েছেন। সু-নির্বাচিত শব্দচয়ন, অনুপ্রাস, বক্রোক্তি, ব্যাজস্তুতি, উপমা-উৎপ্রেক্ষা ও গদ্যছন্দের ব্যবহারে তিনি নিজস্ব ভাষাশৈলী নির্মাণে সক্ষম হয়েছেন। গ্রন্থের ৮০টি কবিতার বিষয়বৈচিত্র্য কবিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের আরেক পর্বে ‘স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের কবিতার গতি-প্রকৃতি’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক ড. কুদরত-ই-হুদা। তিনি বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের প্রাক্কালে পূর্ব বাংলার মুসলিম সমাজ ধর্মীয় চেতনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কারণেও পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদে আগ্রহী হয়েছিল। চল্লিশের দশকে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিপুল কবিতা রচিত হলেও ষাটের দশকে এসে এ বিষয়ে কবিদের মোহভঙ্গ ঘটে।

শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় কবি আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতা পাঠ। পঠিত কবিতাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার, নুসরাত সুলতানা এবং কবি ওয়াহিদ জামান।

নুসরাত সুলতানা বলেন, কবিতা মূলত অনুভবের বিষয়। আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতায় নান্দনিক শব্দচয়ন, গভীর উপলব্ধি, দর্শনচিন্তা ও মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান পাঠককে ভাবনায় নিমজ্জিত করে।

আহমেদ বাসার বলেন, তার কবিতায় মিস্টিক চেতনার প্রকাশ রয়েছে এবং কবিতাগুলো হৃদয়ের চেয়ে বেশি মেধাশাসিত।

ওয়াহিদ জামান বলেন, আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতা সহজ-সরল হলেও গভীর জীবনবোধে সমৃদ্ধ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি রমজান সরকার, সাদমান সজীব, শামস আরেফিন, আকেল হায়দার, মেজবাহ উদ্দিন, জুননু রাইন, শেখ আহমেদ ফরহাদ, প্রফেসর ড. রকিবুল হাসান, ড. ডি এম ফিরোজ শাহ, নাট্য নির্মাতা মিতুল খান, গবেষক হোসাইন মোহাম্মদ জাকি, কবি আহমেদ বাবু, হাসিবুর রহমান জয়, মুনযির সাদ, হুসাইন আলমগীর, অঞ্জলী রাণী পূজা, মাসুদ হাসান, বহ্নি কুসুম, সাহিনা মিতা, ফরিদুল ইসলাম নির্জন, ড. সর্দার এ হায়দার, রহিজ আলী সরদার, বোরহান মাসুদ, তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন, আহমেদ বাবুল, ফরহাদুর রহমান, সোহাগ হাওলাদার ও রাসেলসহ অনেকে।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

সৃজনে কবিতা পাঠ ও ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থের পাঠপর্যালোচনা

প্রকাশিত: ০২:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন সৃজনের আয়োজনে কবি আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতা পাঠ এবং কবি লুব্ধক মাহবুবের ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে পাঠপর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সৃজনের মিরপুর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক ও গল্পকার প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক এবং গবেষক প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ।

আনোয়ারুল হক বলেন, লুব্ধক মাহবুব মূলত প্রেমের কবি। প্রবাসজীবনের টানাপোড়েন তার কবিতার অন্যতম অনুষঙ্গ। ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থে কবির পরিণত মনন ও শব্দচয়নের দক্ষতা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। তার কবিতায় দেশপ্রেম, রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গও স্থান পেয়েছে।

প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ বলেন, ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ লুব্ধক মাহবুবের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ এবং এ গ্রন্থে তিনি আগের চেয়ে আরও পরিণত কবির পরিচয় দিয়েছেন। সু-নির্বাচিত শব্দচয়ন, অনুপ্রাস, বক্রোক্তি, ব্যাজস্তুতি, উপমা-উৎপ্রেক্ষা ও গদ্যছন্দের ব্যবহারে তিনি নিজস্ব ভাষাশৈলী নির্মাণে সক্ষম হয়েছেন। গ্রন্থের ৮০টি কবিতার বিষয়বৈচিত্র্য কবিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের আরেক পর্বে ‘স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের কবিতার গতি-প্রকৃতি’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক ড. কুদরত-ই-হুদা। তিনি বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের প্রাক্কালে পূর্ব বাংলার মুসলিম সমাজ ধর্মীয় চেতনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কারণেও পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদে আগ্রহী হয়েছিল। চল্লিশের দশকে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিপুল কবিতা রচিত হলেও ষাটের দশকে এসে এ বিষয়ে কবিদের মোহভঙ্গ ঘটে।

শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় কবি আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতা পাঠ। পঠিত কবিতাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার, নুসরাত সুলতানা এবং কবি ওয়াহিদ জামান।

নুসরাত সুলতানা বলেন, কবিতা মূলত অনুভবের বিষয়। আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতায় নান্দনিক শব্দচয়ন, গভীর উপলব্ধি, দর্শনচিন্তা ও মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান পাঠককে ভাবনায় নিমজ্জিত করে।

আহমেদ বাসার বলেন, তার কবিতায় মিস্টিক চেতনার প্রকাশ রয়েছে এবং কবিতাগুলো হৃদয়ের চেয়ে বেশি মেধাশাসিত।

ওয়াহিদ জামান বলেন, আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতা সহজ-সরল হলেও গভীর জীবনবোধে সমৃদ্ধ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি রমজান সরকার, সাদমান সজীব, শামস আরেফিন, আকেল হায়দার, মেজবাহ উদ্দিন, জুননু রাইন, শেখ আহমেদ ফরহাদ, প্রফেসর ড. রকিবুল হাসান, ড. ডি এম ফিরোজ শাহ, নাট্য নির্মাতা মিতুল খান, গবেষক হোসাইন মোহাম্মদ জাকি, কবি আহমেদ বাবু, হাসিবুর রহমান জয়, মুনযির সাদ, হুসাইন আলমগীর, অঞ্জলী রাণী পূজা, মাসুদ হাসান, বহ্নি কুসুম, সাহিনা মিতা, ফরিদুল ইসলাম নির্জন, ড. সর্দার এ হায়দার, রহিজ আলী সরদার, বোরহান মাসুদ, তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন, আহমেদ বাবুল, ফরহাদুর রহমান, সোহাগ হাওলাদার ও রাসেলসহ অনেকে।

kalprakash.com/SS