পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি বড় সাফল্যের পথে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় দেড় দশক ধরে চলা তৃণমূল শাসনের এই পতনের পেছনে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণ কাজ করেছে।
প্রথমত, নির্বাচনী কৌশলে অতিরিক্তভাবে আই-প্যাকের ওপর নির্ভরতা দলটির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতে এই কৌশল সফল হলেও এবার কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ত, মুসলিম ভোটব্যাংকে বিভাজনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগে এই ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের পক্ষে থাকলেও এবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টসহ ছোট দলগুলোর উত্থানে ভোট ভাগ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, হিন্দু ভোটের একটি অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও ভোটারদের মনোভাবে প্রভাব ফেলেছে।
বিজেপির ক্ষেত্রে সংগঠিত প্রচারণা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার কৌশল তাদের অবস্থান শক্ত করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প ও ভাতার প্রতিশ্রুতিও গ্রামীণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে।
এছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কিছু ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যের নেতৃত্বে কে আসবেন তা নিয়ে এখনো জল্পনা চলছে। শুভেন্দু অধিকারীসহ একাধিক বিজেপি নেতার নাম সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিতই থাকছে।
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















