বাংলাদেশ ১২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিলি, ৬.৮ মাত্রার কম্পনে আতঙ্ক Logo পবিত্র হজ আজ, মিনায় লাখো হাজির সমাগম Logo বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা এডিবির Logo পে স্কেল বাস্তবায়নে ব্যয় কমিয়ে নতুন সমন্বিত পরিকল্পনা Logo নারায়ণগঞ্জে ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে লাল গালিচায় বিদায় Logo পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলায় চার্জশিট, সোহেল-স্বপ্নার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ Logo এআই ট্রাফিক মামলা নিয়ে ভুয়া এসএমএসে প্রতারণা, সতর্ক করল ডিএমপি Logo পাকিস্তানি এমপিএ সাকিব চাধারের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ Logo অস্ট্রেলিয়ার ভুয়া ভিসা চিঠি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান, যাচাইয়ের নির্দেশনা দিল হাইকমিশন Logo মেডিকেল রিপোর্টে শঙ্কামুক্ত মেসি, বিশ্বকাপের আগে স্বস্তি আর্জেন্টিনা শিবিরে

বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা—মোংলা-বেনাপোল কমিউটার ট্রেনের লিজ বাতিল, ফিরল সরকারি নিয়ন্ত্রণে

ছবিঃ সংগৃহীত

বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন পরিচালনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস কর পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ট্রেন দুটি আবারও সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে লিজ বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

সূত্রগুলো বলছে, অধিক রাজস্ব আয়ের প্রত্যাশায় ট্রেন দুটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকার মিরপুর দারুস সালাম রোডের ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি দুই জোড়া কমিউটার ট্রেন পরিচালনা শুরু করে।

তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক দায়—বিশেষ করে ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস কর—পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাতিলের পথে হাঁটে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চলাচলের সময় যাত্রীসেবার মান নিয়েও নানা অভিযোগ ছিল। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং পরিষেবার মান নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসায় এসব সমস্যা কমবে বলে আশা করছেন নিয়মিত যাত্রীরা।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তি করার ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে যাত্রীসেবা ব্যাহত না হয় এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্রেন দুটি পুনরায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ায় যাত্রীসেবা আরও নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিলি, ৬.৮ মাত্রার কম্পনে আতঙ্ক

বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতা—মোংলা-বেনাপোল কমিউটার ট্রেনের লিজ বাতিল, ফিরল সরকারি নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশিত: ০৭:০০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন পরিচালনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস কর পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ট্রেন দুটি আবারও সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে লিজ বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

সূত্রগুলো বলছে, অধিক রাজস্ব আয়ের প্রত্যাশায় ট্রেন দুটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকার মিরপুর দারুস সালাম রোডের ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি দুই জোড়া কমিউটার ট্রেন পরিচালনা শুরু করে।

তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক দায়—বিশেষ করে ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস কর—পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাতিলের পথে হাঁটে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চলাচলের সময় যাত্রীসেবার মান নিয়েও নানা অভিযোগ ছিল। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং পরিষেবার মান নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসায় এসব সমস্যা কমবে বলে আশা করছেন নিয়মিত যাত্রীরা।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তি করার ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে যাত্রীসেবা ব্যাহত না হয় এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্রেন দুটি পুনরায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ায় যাত্রীসেবা আরও নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।