বাংলাদেশ ১২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিলি, ৬.৮ মাত্রার কম্পনে আতঙ্ক Logo পবিত্র হজ আজ, মিনায় লাখো হাজির সমাগম Logo বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা এডিবির Logo পে স্কেল বাস্তবায়নে ব্যয় কমিয়ে নতুন সমন্বিত পরিকল্পনা Logo নারায়ণগঞ্জে ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে লাল গালিচায় বিদায় Logo পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলায় চার্জশিট, সোহেল-স্বপ্নার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ Logo এআই ট্রাফিক মামলা নিয়ে ভুয়া এসএমএসে প্রতারণা, সতর্ক করল ডিএমপি Logo পাকিস্তানি এমপিএ সাকিব চাধারের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ Logo অস্ট্রেলিয়ার ভুয়া ভিসা চিঠি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান, যাচাইয়ের নির্দেশনা দিল হাইকমিশন Logo মেডিকেল রিপোর্টে শঙ্কামুক্ত মেসি, বিশ্বকাপের আগে স্বস্তি আর্জেন্টিনা শিবিরে

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল বোরো—কচুয়ার ৭,৩০০ হেক্টর জমিতে কৃষকের চোখের জল

ছবিঃ সংগৃহীত

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কৃষকদের স্বপ্ন ভেসে গেছে পানিতে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে বোরো ধান এখন পানির নিচে। পাকা কিংবা আধপাকা ধান কাটার আগেই ডুবে যাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক।

স্থানীয়রা জানান, অনেক কৃষক ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কেউ কেউ আবার ধান কেটে জমিতেই শুকাতে দিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে শুরু হয় টানা বৃষ্টি। এতে নিম্নাঞ্চলের ক্ষেত দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে মাঠে থাকা ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সোনালি ধানের ক্ষেত এখন কেবল পানির নিচে ডুবে থাকা শীষ। কোথাও কোথাও কাটা ধান ভাসছে পানির ওপর। কৃষকদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। তাদের ভাষায়, “এবার ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল একটানা বৃষ্টিতে।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কচুয়া উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনের সম্ভাবনাও ছিল বেশ ভালো। কিন্তু আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই আশায় ধাক্কা লেগেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী জানান, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু জমিগুলো প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করছি। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।”

কৃষকদের অভিযোগ, অধিকাংশই ঋণ নিয়ে এ বছর চাষাবাদ করেছিলেন। ঠিক ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বলছেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা এবং পরবর্তী মৌসুমের জন্য বীজ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে আগামী দিনে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

স্থানীয়দের মতে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—তাই এই সংকটে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিলি, ৬.৮ মাত্রার কম্পনে আতঙ্ক

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল বোরো—কচুয়ার ৭,৩০০ হেক্টর জমিতে কৃষকের চোখের জল

প্রকাশিত: ০৬:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কৃষকদের স্বপ্ন ভেসে গেছে পানিতে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে বোরো ধান এখন পানির নিচে। পাকা কিংবা আধপাকা ধান কাটার আগেই ডুবে যাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক।

স্থানীয়রা জানান, অনেক কৃষক ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কেউ কেউ আবার ধান কেটে জমিতেই শুকাতে দিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে শুরু হয় টানা বৃষ্টি। এতে নিম্নাঞ্চলের ক্ষেত দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে মাঠে থাকা ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সোনালি ধানের ক্ষেত এখন কেবল পানির নিচে ডুবে থাকা শীষ। কোথাও কোথাও কাটা ধান ভাসছে পানির ওপর। কৃষকদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। তাদের ভাষায়, “এবার ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল একটানা বৃষ্টিতে।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কচুয়া উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনের সম্ভাবনাও ছিল বেশ ভালো। কিন্তু আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই আশায় ধাক্কা লেগেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী জানান, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু জমিগুলো প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করছি। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।”

কৃষকদের অভিযোগ, অধিকাংশই ঋণ নিয়ে এ বছর চাষাবাদ করেছিলেন। ঠিক ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বলছেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা এবং পরবর্তী মৌসুমের জন্য বীজ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে আগামী দিনে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

স্থানীয়দের মতে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—তাই এই সংকটে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।