বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, রাঙামাটি সদর উপজেলার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা সিএনজি স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাঙামাটি সদর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাঙামাটি জেলা সভাপতি আব্দুস সালাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শুরা সদস্য ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ, সাবেক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, বর্তমান সেক্রেটারি নুরুজ্জামাল এবং জেলা অর্থ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুস সালাম বলেন, শ্রমিকরা দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি। তাদের ঘাম-শ্রমের বিনিময়েই আজকের সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে যাচ্ছে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সবসময় শ্রমিকদের কল্যাণ, অধিকার আদায় এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই আন্দোলন আরও শক্তিশালীভাবে অব্যাহত থাকবে। শ্রমিকদের উচিত নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখা।
বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদের বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রমিকরা কোনোভাবেই অবহেলার পাত্র নন; বরং তারা এই দেশের উন্নয়ন কাঠামোর অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেই রাষ্ট্রের শ্রমজীবী মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে কাজ করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনো অনেক শ্রমিক তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সবসময় শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনের এই ধারাবাহিক আন্দোলন শ্রমিকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে এবং তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের পথকে আরও সুসংগঠিত করেছে। আমাদের লক্ষ্য একটি ন্যায্য ও মানবিক শ্রমব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে কোনো শ্রমিক অবহেলিত থাকবে না।
অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ আরও বলেন, শ্রমিকদের উচিত নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকা। বিভক্ত থাকলে অধিকার আদায় কঠিন হয়ে যায়; তাই ঐক্যই হচ্ছে শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা বিশ্বাস করি, শ্রমিকদের সংগঠিত আন্দোলনই ভবিষ্যতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সংগঠনের ঐক্য ও শক্তিশালী ভূমিকা শ্রমিকদের দাবি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
র্যালি ও আলোচনা সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করেন।
মো. নাজিম আলী, রাঙামাটি প্রতিনিধি 























