বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার দড়ি উমাজুড়ি গ্রামে বজ্রপাতে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে আনন্দ মিস্ত্রি (৩৯) নামে এক দিনমজুরের বসতঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। এতে তার পরিবারের কষ্টার্জিত জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আনন্দ মিস্ত্রি তার স্ত্রী লোপা হালদার (৩৩) এবং একমাত্র কন্যা সংগীতা মিস্ত্রি (১০)-কে নিয়ে মাসিক এক হাজার টাকায় স্থানীয় শুভংকর রায়ের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সংগীতা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
প্রায় ১৮ দিন আগে আনন্দ মিস্ত্রীর শ্যালক রবিন হালদারের মৃত্যু হলে পারিবারিক কারণে তারা গতকাল বিকেলে উপজেলার গজালিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় তাদের বসতঘর তালাবদ্ধ ছিল।
গত রাতে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তাদের শোবার ঘরে বজ্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। ঘরের ভেতরে থাকা সেলাই মেশিন, বৈদ্যুতিক ফ্যান, গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা, লেপ-কম্বল, থালা-বাসন, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং স্কুলপড়ুয়া মেয়ের বইপুস্তকসহ সবকিছু পুড়ে কয়লা হয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাতেই তাদের জানানো হলেও দূরত্ব ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। ভোরে বাড়িতে এসে তারা দেখতে পান—যে ঘরে তাদের স্বপ্ন ও সংগ্রামের সংসার ছিল, সেখানে এখন শুধু পোড়া ছাই ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাদের ছোট মেয়ে সংগীতা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলে, আমি এখন কীভাবে স্কুলে যাব? আমার বই, খাতা, স্কুল ড্রেস—সব পুড়ে গেছে।
খবর পেয়ে চিতলমারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার দ্রুত ঘটনাস্থলে সহায়তা পাঠান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে শুকনো খাবার তুলে দেন। পাশাপাশি তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবানদের এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
সচেতনতা বার্তা:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় ঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখা, খোলা জায়গায় না থাকা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া গ্রামীণ বসতঘরে বজ্রনিরোধক (লাইটনিং অ্যারেস্টার) স্থাপন করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে।
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি 























