বাংলাদেশ ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

কীভাবে ‘সুরের রানী’ হয়ে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে

সংগৃহীত ছবি

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে-এর প্রয়াণে উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। দীর্ঘ সংগীতজীবনে হাজারো গান গেয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘সুরের রানী’—যা শুধু জনপ্রিয়তা নয়, বরং বহুমাত্রিক প্রতিভার স্বীকৃতি।

১৯৩৩ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম নেওয়া আশা ভোঁসলের বেড়ে ওঠা ছিল সংগীতের আবহে। তার বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন নাট্যশিল্পী ও শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পথ অনুসরণ করেই তিনি খুব অল্প বয়সে সংগীত জগতে প্রবেশ করেন।

মাত্র ৯ বছর বয়সে, ১৯৪৩ সালে তার গানের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে পথ ছিল কঠিন—দীর্ঘদিন তাকে ‘লতা মঙ্গেশকরের ছোট বোন’ পরিচয় নিয়েই এগোতে হয়েছে। তবে নিজের কণ্ঠের স্বতন্ত্রতা, প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেন।

১৯৫০-এর দশকে কিছু জনপ্রিয় গান গাইলেও তখন তিনি নির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। পরিবর্তনের মোড় আসে সুরকার ও. পি. নায়ারের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে। তাদের সহযোগিতায় আধুনিক ঘরানার একাধিক জনপ্রিয় গান তৈরি হয়, যা তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ক্যাবারে, লোকসংগীত, রোমান্টিক ও গজল—সব ধরনের গানে সমান দক্ষতা দেখিয়ে তিনি নিজেকে বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে বলিউডের নাচের গানে তিনি প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তোলেন। ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘ও হাসিনা জুলফোঁওয়ালি’সহ অসংখ্য গান আজও জনপ্রিয়।

বিশেষ করে অভিনেত্রী হেলেনের সঙ্গে তার কণ্ঠ পর্দায় এক অনন্য সমন্বয় তৈরি করে।

তবে কেবল নাচের গানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। ‘উমরাও জান’ ছবির গজল গেয়ে জাতীয় পুরস্কার জেতেন এবং ‘ইজাজাত’ ছবির ‘মেরা কিছু সামান’ গানেও তার কণ্ঠ নতুন মাত্রা যোগ করে। এতে প্রমাণ হয়, তিনি ছিলেন এক বহুমাত্রিক শিল্পী।

পরবর্তীতে সুরকার আর. ডি. বর্মনের সঙ্গে তার সংগীতজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পরে ব্যক্তিগত জীবনেও তারা একত্র হন।

এর আগে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন তিনি, যা পরবর্তীতে বিচ্ছেদে শেষ হয়। এরপর সন্তানদের নিয়ে পরিবারে ফিরে এসে নতুন করে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।

আশা ভোঁসলের প্রয়াণ শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়, বরং একটি যুগের অবসান। তার কণ্ঠে গাওয়া গান আজও সময় পেরিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান প্রিয়।

 

kalprakash.com/SS

রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
কীভাবে ‘সুরের রানী’ হয়ে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

কীভাবে ‘সুরের রানী’ হয়ে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে

প্রকাশিত: ০৫:১১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে-এর প্রয়াণে উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। দীর্ঘ সংগীতজীবনে হাজারো গান গেয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘সুরের রানী’—যা শুধু জনপ্রিয়তা নয়, বরং বহুমাত্রিক প্রতিভার স্বীকৃতি।

১৯৩৩ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম নেওয়া আশা ভোঁসলের বেড়ে ওঠা ছিল সংগীতের আবহে। তার বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন নাট্যশিল্পী ও শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পথ অনুসরণ করেই তিনি খুব অল্প বয়সে সংগীত জগতে প্রবেশ করেন।

মাত্র ৯ বছর বয়সে, ১৯৪৩ সালে তার গানের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে পথ ছিল কঠিন—দীর্ঘদিন তাকে ‘লতা মঙ্গেশকরের ছোট বোন’ পরিচয় নিয়েই এগোতে হয়েছে। তবে নিজের কণ্ঠের স্বতন্ত্রতা, প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেন।

১৯৫০-এর দশকে কিছু জনপ্রিয় গান গাইলেও তখন তিনি নির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। পরিবর্তনের মোড় আসে সুরকার ও. পি. নায়ারের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে। তাদের সহযোগিতায় আধুনিক ঘরানার একাধিক জনপ্রিয় গান তৈরি হয়, যা তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ক্যাবারে, লোকসংগীত, রোমান্টিক ও গজল—সব ধরনের গানে সমান দক্ষতা দেখিয়ে তিনি নিজেকে বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে বলিউডের নাচের গানে তিনি প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তোলেন। ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘ও হাসিনা জুলফোঁওয়ালি’সহ অসংখ্য গান আজও জনপ্রিয়।

বিশেষ করে অভিনেত্রী হেলেনের সঙ্গে তার কণ্ঠ পর্দায় এক অনন্য সমন্বয় তৈরি করে।

তবে কেবল নাচের গানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। ‘উমরাও জান’ ছবির গজল গেয়ে জাতীয় পুরস্কার জেতেন এবং ‘ইজাজাত’ ছবির ‘মেরা কিছু সামান’ গানেও তার কণ্ঠ নতুন মাত্রা যোগ করে। এতে প্রমাণ হয়, তিনি ছিলেন এক বহুমাত্রিক শিল্পী।

পরবর্তীতে সুরকার আর. ডি. বর্মনের সঙ্গে তার সংগীতজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পরে ব্যক্তিগত জীবনেও তারা একত্র হন।

এর আগে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন তিনি, যা পরবর্তীতে বিচ্ছেদে শেষ হয়। এরপর সন্তানদের নিয়ে পরিবারে ফিরে এসে নতুন করে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।

আশা ভোঁসলের প্রয়াণ শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়, বরং একটি যুগের অবসান। তার কণ্ঠে গাওয়া গান আজও সময় পেরিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান প্রিয়।

 

kalprakash.com/SS

রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
কীভাবে ‘সুরের রানী’ হয়ে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে