বাংলাদেশ ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প Logo নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে জরিমানা Logo নালিতাবাড়ীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন, শরিয়াহভিত্তিক বিচারের দাবি Logo রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার Logo লালপুরে ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণধোলাই শেষে পুলিশের কাছে সোপর্দ Logo নবীনগর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানা Logo বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান Logo জুনের শুরুতেই মোংলায় চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস Logo বাগেরহাটের কোরবানির হাটে আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ধলু মিয়া’ Logo জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে মোংলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা

মার্চজুড়ে সড়কে মৃত্যু ৫৩২: থামছে না দুর্ঘটনার ভয়াবহ মিছিল

দেশের সড়কে প্রাণহানির চিত্র আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে সারা দেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ২২১ জন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫.৪২ জন নিহত হয়েছেন, মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জনে।

মার্চ মাসে নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়—মোট ২০৪ জন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া বাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন যাত্রী, তিন চাকার যানবাহন যেমন ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনায় ৯৪ জন এবং প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসজুড়ে মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই সর্বোচ্চ ২৪৪টি।

শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

আঞ্চলিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় আলাদাভাবে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে আঞ্চলিক সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ হারানো ও মুখোমুখি সংঘর্ষই সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সড়কের ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামো এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প

মার্চজুড়ে সড়কে মৃত্যু ৫৩২: থামছে না দুর্ঘটনার ভয়াবহ মিছিল

প্রকাশিত: ১২:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের সড়কে প্রাণহানির চিত্র আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে সারা দেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ২২১ জন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫.৪২ জন নিহত হয়েছেন, মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জনে।

মার্চ মাসে নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়—মোট ২০৪ জন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া বাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন যাত্রী, তিন চাকার যানবাহন যেমন ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনায় ৯৪ জন এবং প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসজুড়ে মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই সর্বোচ্চ ২৪৪টি।

শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

আঞ্চলিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় আলাদাভাবে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে আঞ্চলিক সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ হারানো ও মুখোমুখি সংঘর্ষই সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সড়কের ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামো এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।