শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ | ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ৮:৫৫:০৪
শিরোনাম
● ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ, এবার আটক বলিউড তারকা ইমরান খান ● উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মির্জা ফয়সল ● বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার, ঢাকায় আটক ৩ ● আইফোন ১৮ প্রোতে রং ফিকে হওয়ার অভিযোগ ● বিদেশি কর্মী নিয়োগে জালিয়াতি, মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ ● মালয়েশিয়ায় কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা ● রমজান মাস শুরু হতে আর কতদিন বাকি? ● সহ-সম্পাদক পদে নিয়োগ দেবে আজকের পত্রিকা ● অভিজ্ঞতা না থাকলেও প্রাণ গ্রুপে আবেদনের সুযোগ ● অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারে চাকরি, আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ● ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ, এবার আটক বলিউড তারকা ইমরান খান ● উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মির্জা ফয়সল ● বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার, ঢাকায় আটক ৩ ● আইফোন ১৮ প্রোতে রং ফিকে হওয়ার অভিযোগ ● বিদেশি কর্মী নিয়োগে জালিয়াতি, মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ ● মালয়েশিয়ায় কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা ● রমজান মাস শুরু হতে আর কতদিন বাকি? ● সহ-সম্পাদক পদে নিয়োগ দেবে আজকের পত্রিকা ● অভিজ্ঞতা না থাকলেও প্রাণ গ্রুপে আবেদনের সুযোগ ● অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারে চাকরি, আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার, ঢাকায় আটক ৩

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি
মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৫
শেয়ার: mail
বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার, ঢাকায় আটক ৩

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকি চক্রের তৎপরতায় একের পর এক আমদানি পণ্যের চালান অনায়াসে পাচার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী মহল।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকে ৭ কোটি টাকা মূল্যের উচ্চ শুল্ক মূল্যের দুই ট্রাক সিনথেটিক ফেব্রিক্স, শাড়ি ও থ্রিপিস শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই বের করে নিয়ে যান বেনাপোল শুল্ক ফাঁকি ও নো-এন্ট্রি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও বন্দরের শেড ইনচার্জের সঙ্গে বিপুল অর্থের চুক্তিতে পণ্যচালানটি শেড থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েও চালানটি আটক করা যায়নি। পরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার কোতোয়ালি থানা-পুলিশ পুরান ঢাকার ওয়াইজ ঘাট এলাকার একটি গুদাম থেকে পণ্যচালানটি আটক করে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে রাঘববোয়ালেরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। তাঁরা বেনাপোলকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের সদস্য বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভারত থেকে কাগজপত্রবিহীন তিন ট্রাক পণ্য নিয়ে আসে চক্রটি। ভারতীয় ট্রাক থেকে সেগুলো খালাস করা হয় বেনাপোল বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্যচালানটি বন্দর থেকে পাচারের তথ্য পেয়ে এনএসআই বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানায়।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে গিয়ে ভারতীয় তিন ট্রাকের পণ্য আটক করেন। ওই পণ্যচালানের সঙ্গে বাংলাদেশি চার ট্রাক শাড়ি, থ্রিপিসসহ ফেব্রিক্সও ছিল। যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা এই চালান দেখভালের দায়িত্ব দেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানকে। অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক ফাঁকি সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিপুল অর্থের বিনিময়ে মঈন উদ্দিন আরমানের সহযোগিতায় শেডে থাকা চার ট্রাক পণ্যের মধ্যে দুই ট্রাক বের করে নেন।

সেই পণ্যচালান অবশেষে শুক্রবার গভীর রাতে এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে পুরান ঢাকায় জব্দ করে পুলিশ। সাত কোটি টাকা মূল্যের দুই ট্রাক পণ্য বন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা নিজে বিজিবি-কাস্টমসের যৌথ বাঁশকলে গিয়ে ট্রাক দুটি আটকের জন্য বলে আসেন। ট্রাক দুটি হলো ঢাকা ট্রান্সপোর্টের ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৪৭১ ও আফজাল পার্সেল ট্রান্সপোর্টের ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-০৮৪৭।

ট্রাক দুটি আটকে যশোরসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যশোর এনএসআইয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও সেগুলো আটক করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাক দুটি আটকের জন্য পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায়ও বলা হয়। একই সঙ্গে এনএসআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। সারা রাত অভিযানের পর পুরান ঢাকার ওয়াইজ ঘাটের সামাদ প্লাজার নিচে অবস্থিত একটি গুদাম থেকে এক ট্রাক (১২০ বস্তা) অবৈধ ভারতীয় কাপড় জব্দ করে পুলিশ। এ সময় সাইফুর রহমান (৩৭), সংগ্রাম হোসেন (৩০) ও বাবু (৩৭) নামে তিনজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। তাঁদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা কোতোয়ালি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কাপড় জব্দ করি। একই সঙ্গে হাতেনাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’ আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে ভারতীয় কাপড় সংগ্রহ, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। জব্দ করা কাপড়ের উৎস এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

এদিকে ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার নেতৃত্বে ‘তদন্ত, গবেষণা ও ব্যবস্থাপনা ইউনিট’ (আইআরএম) টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানকে অনুপস্থিত দেখতে পান। পরে দায়িত্বে না থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এতে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা ক্ষিপ্ত হয়ে মঈন উদ্দিন আরমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে কাস্টমসের রাজস্ব ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। তাঁরা কয়েক ঘণ্টা কাজও বন্ধ রাখেন।

ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর। এখানে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাপ্তরিক কোনো সিদ্ধান্ত বা দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁরা বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কর্মস্থলে কোনো কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সত্য হলে সেটিও প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। যা কিছু বলার, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানান তিনি।

বন্দরের একটি সূত্র জানায়, বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য পাচারের ঘটনায় কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানসহ বেনাপোল স্থলবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জড়িত, যা সংশ্লিষ্ট মহলের সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে মিথ্যা ঘোষণায় আনা আরও কয়েক কোটি টাকার পণ্যচালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া গত আট মাসে ৪১ নম্বর শেড থেকে মিথ্যা ঘোষণা ও জাল-জালিয়াতির কাগজপত্র দিয়ে কী পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্যচালান বেরিয়ে গেছে, তার তদন্ত শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় উচ্চ পর্যায়ের একটি গোয়েন্দা দল।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, নতুন করে ওঠা অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোববার এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বন্দরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা পরে এ নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুল্ক ফাঁকিতে জড়িত বা সহায়তাকারী কাস্টমস ও বন্দরের সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে বন্দর ও কাস্টমস হাউসের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে এবং সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার, ঢাকায় আটক ৩

বিস্তারিত কমেন্টে