২০০৭ সালের এক-এগারো সরকারের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বা সমর্থনকারী অনেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ক্ষমতায় ছিলেন। এদের লক্ষ্য ছিল একত্রিত গণতন্ত্র ধ্বংস, অর্থনীতিকে বিদেশনির্ভর করে তোলা এবং দেশকে বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণে ফেলা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এক-এগারো এবং বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের মূল যোগসূত্র ছিলেন সুশীল সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।
এক-এগারো সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর নেতৃত্বেই ওই সরকার গঠিত হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এক-এগারোর সময় গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। সাবেক অর্থসচিব ও ইউনূস সরকারের সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদারও এক-এগারোর কুশীলব ছিলেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অন্তত সাতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি দুই সময়েই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন।
২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর দেশের কিছু সুশীল সমাজ ও সংবাদপত্র দীর্ঘমেয়াদি অনির্বাচিত সরকার গঠনের পরিকল্পনা শুরু করে। নোবেলজয়ী ড. ইউনূস রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ‘নাগরিক শক্তি’ নামে একটি দল গঠন করেন। এ দলের উদ্যোগ ও সংবাদপত্রের সমর্থন এক-এগারোর পটভূমি তৈরি করে।
ফখরুদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচনের বাধা দিতে এবং দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। এই দুই বছরের শাসনকালে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি পিছিয়ে যায়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এক-এগারো ও ইউনূস সরকারের এই ষড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে সুশীল সমাজের ভূমিকারও তদন্ত করা প্রয়োজন।
যারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচনের বাধা দিয়েছিলেন, তারা এক-এগারোর কুশীলব হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন। যদি এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার বিপদে পড়তে পারে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 






















