‘স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়তে ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস-২০২৬।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সহযোগিতায় দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, ফার্মাসিস্ট শপথ পাঠ, কেক কাটা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ফার্মাসিস্ট শপথ পাঠ ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের আয়োজন শেষ হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন ভবনে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সিনিয়র ম্যানেজার (হিউম্যান রিসোর্স) মো. ফয়সাল ইকবাল।
কিনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সিনিয়র ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ইনভাইটেড স্পিকার ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেরদুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; সেই জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মানসিকতাও তৈরি করতে হবে।
ফার্মাসিস্টদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টরা ওষুধ ব্যবস্থাপনার বিশেষজ্ঞ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওষুধের ভুল প্রয়োগ প্রতিরোধ এবং রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য ফার্মাসিস্ট হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একাডেমিয়া ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এমন সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সংযোগ তৈরি করবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি কাজের সুযোগ শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কিনোট স্পিকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত নিয়ম না মেনে ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ওষুধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নেও ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রোগীদের সচেতন করা এবং নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।