সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ২:১৩:১৪
শিরোনাম
চট্টগ্রামের পোশাকশিল্পে শ্রমিকের অধিকার ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ইবির মহেশপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি: সভাপতি রিয়ন, সম্পাদক নূর আলম চুয়াডাঙ্গায় পাচারের সময় ট্রাকভর্তি ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার জব্দ দেশের বাইরেও অপকর্ম করে পার পাওয়া যাবে না: চুয়াডাঙ্গায় সংস্কৃতিমন্ত্রী বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় ইলিশের ব্যাপক আমদানি: ৫০০ টাকার মাছ বাজারে বিক্রি ১৮০০ টাকায় বাংলাদেশকে গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখতে চায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র: নাটোরে চাকসু ভিপি রনি চাটমোহরের এসিল্যান্ড ফয়সাল মাহমুদকে বগুড়ার গাবতলীতে বদলি পাবনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন স্মারকলিপি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে ধানমন্ডি থানায় বিএনপির দুই ওয়ার্ড নেতা ধানমন্ডিতে গোপন বৈঠক, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের পোশাকশিল্পে শ্রমিকের অধিকার ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ইবির মহেশপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি: সভাপতি রিয়ন, সম্পাদক নূর আলম চুয়াডাঙ্গায় পাচারের সময় ট্রাকভর্তি ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার জব্দ দেশের বাইরেও অপকর্ম করে পার পাওয়া যাবে না: চুয়াডাঙ্গায় সংস্কৃতিমন্ত্রী বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় ইলিশের ব্যাপক আমদানি: ৫০০ টাকার মাছ বাজারে বিক্রি ১৮০০ টাকায় বাংলাদেশকে গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখতে চায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র: নাটোরে চাকসু ভিপি রনি চাটমোহরের এসিল্যান্ড ফয়সাল মাহমুদকে বগুড়ার গাবতলীতে বদলি পাবনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন স্মারকলিপি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে ধানমন্ডি থানায় বিএনপির দুই ওয়ার্ড নেতা ধানমন্ডিতে গোপন বৈঠক, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর গ্রেপ্তার

বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় ইলিশের ব্যাপক আমদানি: ৫০০ টাকার মাছ বাজারে বিক্রি ১৮০০ টাকায়

মো. মনির হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
মো. মনির হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৫
শেয়ার: mail
বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় ইলিশের ব্যাপক আমদানি: ৫০০ টাকার মাছ বাজারে বিক্রি ১৮০০ টাকায়

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও মিয়ানমারের ইলিশ দেদার আমদানি হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। প্রায় ৫০০ টাকা খরচে আমদানি করা এসব মাছ ‘পদ্মার ইলিশ’ বলে প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বেনাপোল ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। অতীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পদ্মার ইলিশ রপ্তানি হলেও এখন ভারত থেকেই আমদানি করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। দেশের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক নিয়মিত এই মাছ আনছেন।

কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ভারতীয় ইলিশ এসেছে। আমদানি করা এসব ইলিশের মোট ঘোষিত মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং আগস্টে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। দুই মাসে ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিশ ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল ও রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব মাছ এনেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে আমদানি করা ইলিশের প্রতি কেজির আমদানি ব্যয় পড়ছে ২৫২ টাকা। এর সঙ্গে সরকারি শুল্ক ১৬২ টাকা, ট্রাকভাড়া এবং এলসি খরচসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ আরও ১০০ টাকা যোগ করলে কেজিতে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৫১৪ টাকা। অথচ সেই মাছই বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।

অভিযোগ উঠেছে, শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাজারেও প্রবেশ করেছে গুজরাট, মুম্বাই ও মিয়ানমারের ইলিশ। কিন্তু স্বাদ ও গন্ধহীন এসব মাছকে বাংলাদেশের সুস্বাদু পদ্মার ইলিশ পরিচয়ে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। দেশি ইলিশের সঙ্গে দেখতে প্রায় একই রকম এবং আকারে বড় হলেও রান্নার পর এতে দেশি ইলিশের স্বাদ ও গন্ধ পাওয়া যায় না। বাজারে এসব মাছ ভারতীয় বা মিয়ানমারের ইলিশ নামে পরিচিত হলেও অনেকেই একে ‘রোহিঙ্গা ইলিশ’ বলে থাকেন। বাজারে দেশি ইলিশের বিপুল চাহিদা ও চড়া দামের সুযোগ নিয়ে আমদানিকৃত মাছ দেশি বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য রয়েছে। মোট ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন। মাছ ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও মিয়ানমারের এসব মাছ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রবেশ করছে। তবে বেনাপোল ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তাদের মতে, বেনাপোল দিয়ে মূলত ভারতীয় ইলিশ আসছে। আর মিয়ানমারের ইলিশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। তবে বাজারে মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে একটি সূত্রের দাবি, কিছু ইলিশ অবৈধ পথেও দেশে প্রবেশ করছে। এর আগে গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টন (প্রায় ৩৬০ কেজি) ভারতীয় ইলিশ জব্দ করেছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল বাজারে ইলিশ কিনতে আসা মো. মহিউদ্দিন বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে মাছ কিনে বাড়িতে রান্নার পর বুঝতে পারেন এর স্বাদ ও গন্ধ একেবারেই আলাদা। দেখতে একই রকম হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে আসল-নকল পার্থক্য করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আরেক ক্রেতা আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কখনও চাঁদপুর, কখনও বরিশাল কিংবা চট্টগ্রামের ইলিশের নাম দিয়ে এসব বিদেশি মাছ চড়া দামে বিক্রি করে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।

বাজারের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে। বিপরীতে একই ওজনের আমদানি করা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক ক্রেতাই এই মাছের দিকে ঝুঁকছেন।

নাভারন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী যাদব হালদার বলেন, বাগআঁচড়ার কুদ্দুস ও বেনাপোলের জাফর নামের দুই ব্যবসায়ী এলসির মাধ্যমে বৈধভাবেই এসব মাছ আমদানি করছেন। তবে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ইলিশের কারণে দেশি মাছের বাজারে তীব্র প্রভাব পড়েছে।

বেনাপোল বাজারের দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী উৎস মণ্ডল, বাবু, মাহাবুব, মোস্তাফিজুর ও পরিতোষ বিশ্বাসসহ কয়েকজন বলেন, কম দামে বড় আকারের বিদেশি ইলিশ আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমে গেছে। ফলে স্থানীয় দেশি মাছের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে ক্রেতারাও প্রতারিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আমদানিকারক জানান, তাঁরা বৈধভাবে সরকারি শুল্ক পরিশোধ করে এলসির মাধ্যমেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছেন এবং আড়তদারদের কাছে বিক্রি করছেন। বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা কী নামে বিক্রি করছেন, তা তদারকি করার দায়িত্ব তাঁদের নয়।

এদিকে সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, বিদেশি ইলিশ দেশি বলে বিক্রির অপতৎপরতা বন্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় ইলিশের ব্যাপক আমদানি: ৫০০ টাকার মাছ বাজারে বিক্রি ১৮০০ টাকায়

বিস্তারিত কমেন্টে