জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, সশস্ত্র হামলা, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় (জিআর মামলা নং-৫৫/২৬) পরোয়ানাভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযান চালিয়ে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা তাঁদের গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারেরচর মাস্টারপাড়া এলাকার মনি খাতুন (৫০), শাহাদত হোসেন (৩০), শাহজাহান (৬০) ও শহীদ মিয়া (৬৫)।
সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের সুরাহায় ঘটনার আগের দিন স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করাকে কেন্দ্র করে পরদিন হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ জুন সকাল ৮টার দিকে মাদারেরচর মাস্টারপাড়া এলাকার মো. ফরহাদের বসতবাড়িতে আসামিরা রামদা, সাবল, কোপদা ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ১ নম্বর আসামি মো. শহীদের নির্দেশে ২ ও ৩ নম্বর আসামি শাহাজামাল ও শাহাদত লোহার সাবল দিয়ে সাক্ষী মো. দুলু মিয়ার (৪৫) মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে শামীম নামের আরেক আসামি লোহার রড দিয়ে দুলু মিয়াকে মারধর করলে তাঁর বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় অন্য আসামিরাও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে দুলু মিয়া অচেতন হয়ে পড়লে তাঁর কাছে থাকা গরু বিক্রির নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মো. ফরহাদ বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।