তীব্র গ্যাসসংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় বিভাগজুড়ে মারাত্মক লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন।
আরপিসিএল সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। তবে বছরের পর বছর গ্যাসস্বল্পতায় কেন্দ্রটির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কারণে ২১০ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্রটি থেকে দীর্ঘদিন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ একেবারেই না থাকায় গত ২৬ দিন ধরে উৎপাদন পুরোপুরি শূন্যে নেমে এসেছে।
আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ জানান, জ্বালানি গ্যাস সংকটের কারণেই ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় এবং অন্যান্য বেসরকারি কেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পুরো ময়মনসিংহ বিভাগে লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলে দৈনিক ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এমনকি জেলা শহরেও দিনে-রাতে কয়েক দফা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
kalprakash.com/IM