সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় তারা আত্মসমর্পণ করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ শীর্ষক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জিম্মি থাকা ৪২ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।
সর্বশেষ আত্মসমর্পণকারী ১২ দস্যুর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হ্যামার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান। এছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের ২০ রাউন্ড বল, ৮ মিমি তাজা গোলা পাঁচ রাউন্ড, এয়ারগানের ৪১৩ রাউন্ড গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সাতজন খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া, চারজন সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং একজন বাগেরহাটের রামপাল এলাকার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে এবং জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সুন্দরবনে এখনও সক্রিয় বনদস্যুদের দ্রুত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM