কুকুর নিধনের অমানবিক পথ পরিহার করে নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ নিয়ন্ত্রণে বাগেরহাট পৌরসভায় শুরু হয়েছে বিশেষ ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি। পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করে শহরের বেওয়ারিশ ও পথকুকুরের পাশাপাশি গৃহপালিত কুকুরকেও পর্যায়ক্রমে জলাতঙ্কের টিকার আওতায় আনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম এবং ফেনীর ডগ এক্সপার্ট টিমের ভ্যাকসিনেশন বিশেষজ্ঞ সায়মনসহ স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি শহরে কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পথচারীদের কুকুরের কামড় খাওয়া ও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফলে প্রাণিহত্যার বদলে আধুনিক ও মানবিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রোগের বিস্তার রোধ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে পথকুকুর শনাক্ত করে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। এ কাজের জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ ‘ফেনীর ডগ এক্সপার্ট টিম’-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তাদের মতে, কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকার আওতায় আনতে পারলে একদিকে প্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে মানুষের মধ্যেও রোগ সংক্রমণের শঙ্কা দূর হবে। বিশেষ করে শিশু, পথচারী এবং নিয়মিত চলাফেরা করা সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে বিগত তিন মাসেই অন্তত ৭ হাজার ৫০০ মানুষ কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ করেছেন। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পৌর এলাকায় কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়াকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা।
kalprakash.com/IM