দেওয়ানবাগকে ঘিরে অতীতে বিভিন্ন আলেম-উলামা ও পীর-মাশায়েখের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তীব্র সমালোচনা ও ধর্মীয় আপত্তির প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি মাহফিলে কয়েকজন সুফিপন্থী পীর-মাশায়েখের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খান্দুরা দরবার শরিফের পীর সৈয়দ জুবায়ের কামালের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে পীর-মাশায়েখ ও সুফিদের নিয়ে আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবীর একটি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মাইজভাণ্ডার ও খান্দুরা দরবার শরিফের পীর সৈয়দ জুবায়ের কামালসহ বেশ কয়েকজন পীর-মাশায়েখকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তারা আয়োজকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলি করছেন। পাশাপাশি একই স্থানে বসে খাবার গ্রহণের দৃশ্যও রয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—দেওয়ানবাগকে ঘিরে অতীতে যখন বিভিন্ন আলেম-উলামা ও পীর-মাশায়েখের পক্ষ থেকে নানা ধরনের ধর্মীয় আপত্তি ও সমালোচনা প্রকাশ করা হয়েছে, তখন সুফিপন্থী হিসেবে পরিচিত এসব পীর-মাশায়েখ কী উদ্দেশ্যে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন?
অনেকের প্রশ্ন, এটি কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সামাজিক সম্পর্কের অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো মতাদর্শিক কিংবা সাংগঠনিক যোগাযোগ? আবার কেউ কেউ জানতে চাইছেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে তারা কি দেওয়ানবাগের কোনো কার্যক্রম বা মতাদর্শের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন?
সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে সৈয়দ জুবায়ের কামালকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে তার ধর্মীয় অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কেউ কেউ তার সুন্নিপন্থী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চাইছেন তার অনুসৃত মতাদর্শ সম্পর্কে।
তবে সচেতন মহলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো দাবি বা মন্তব্যকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। একইভাবে কোনো অনুষ্ঠানে কেবল উপস্থিতি, কুশল বিনিময় কিংবা একই সঙ্গে খাবার গ্রহণের দৃশ্য থেকে কোনো ব্যক্তির আকিদা, মতাদর্শ বা ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়।
এখন মূল প্রশ্ন উঠেছে—অনুষ্ঠানে উপস্থিত পীর-মাশায়েখদের সেখানে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং আয়োজকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ধরন কী? একই সঙ্গে দেওয়ানবাগের মতাদর্শের বিষয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থানই বা কী?
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষ করে সৈয়দ জুবায়ের কামালের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা সুস্পষ্ট অবস্থান জানানো হলে চলমান আলোচনা ও কৌতূহলের অবসান ঘটতে পারে। একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অঙ্গনে তৈরি হওয়া এই সংশয় নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর পেছনে বৃহত্তর কোনো প্রেক্ষাপট রয়েছে—এখন সেই স্পষ্টতার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।
kalprakash.com/IM