ক্যানসার সবসময় হঠাৎ করে ধরা পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে শরীর আগেই কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেয়। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের কাজের চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা সাধারণ শারীরিক সমস্যা ভেবে অনেকেই এসব লক্ষণ অবহেলা করেন।
জনস হপকিন্স মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, শরীরে কিছু লক্ষণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে চিকিৎসকেরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মানেই ক্যানসার নয়; সাধারণ নানা শারীরিক সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। তা সত্ত্বেও লক্ষণগুলো স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
১. কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া: খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি কয়েক মাসের মধ্যে শরীরের ওজন প্রায় ৪ দশমিক ৫ কেজি বা তার বেশি কমে যায়, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বিভিন্ন কারণে ওজন কমতে পারে, তবে কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
২. বিশ্রামের পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি: সারাদিন কাজের পর ক্লান্তি অনুভব করা স্বাভাবিক। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দূর না হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের ক্লান্তি ক্যানসারের পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, অনিদ্রা কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেও হতে পারে।
৩. বারবার জ্বর আসা: সাধারণ সংক্রমণে জ্বর হলে তা সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়। কিন্তু কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার জ্বর আসা, বিশেষ করে রাতের বেলা জ্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম হওয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। রক্তের ক্যানসারসহ কিছু ধরনের ক্যানসারে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
৪. দীর্ঘস্থায়ী অকারণ ব্যথা: শরীরের কোথাও ব্যথা হলেই ক্যানসার ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে কোনো ব্যথা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, বারবার ফিরে আসে কিংবা ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং স্পষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে শারীরিক পরীক্ষা করানো দরকার। টিউমার আশপাশের টিস্যুতে চাপ সৃষ্টি করলে এ ধরনের ব্যথা হতে পারে।
৫. ত্বক বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন: ত্বকে নতুন কোনো দাগ বা অস্বাভাবিক পরিবর্তনও রোগের সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, তিলের আকার বা রঙে পরিবর্তন আসা, তিলের কিনারা অসমান হয়ে যাওয়া কিংবা তিল দ্রুত বড় হতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ মানেই ক্যানসার নয়। তবে কোনো শারীরিক সমস্যা যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয়, বারবার ফিরে আসে কিংবা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যায়, তবে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। যেকোনো গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে তা চিকিৎসা সফলতার সম্ভাবনা বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়।
kalprakash.com/IM