নিজের অর্থায়নে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১টি মাদ্রাসাসহ মোট ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই এবং বুকশেলফ উপহার দিয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষকদের হাতে এসব উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভালো ফলাফল অর্জনকারী একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রীকে উপাচার্য নিজ হাতে বিশেষ উপহার প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপহারপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো―মহেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খয়েরসূতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইওনিয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জহিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাওলানা কসিম উদ্দিন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং জহিরপুর দাখিল মাদ্রাসা। উপহার দেওয়া বইয়ের তালিকায় ছিল ইংরেজি ব্যাকরণ ও স্পোকেন শেখার বই, ছোটগল্প, শিশুসাহিত্য এবং ধর্মীয় বইসহ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ সৃষ্টি করে এমন বিভিন্ন সহায়ক বই।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, একটি প্রজন্মের সঙ্গে আরেকটি প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু নিজেদের শিক্ষার্থীদের নিয়েই কাজ করবে তা নয়, আশপাশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোর প্রতিও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। একটি বহুতল ভবন যতই সুন্দর হোক, তার ভিত্তি যদি শক্ত না হয় তবে ভবনটি টেকসই হয় না। ঠিক তেমনি একটি দেশের ভবিষ্যৎ যতই সম্ভাবনাময় হোক, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত না হলে সেই ভবিষ্যৎ শক্তিশালী হতে পারে না। শিশুর ভাষা, চিন্তা, সামাজিক শিষ্টাচার, নৈতিক মূল্যবোধ ও শেখার আগ্রহের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবতা হলো আমাদের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো পর্যাপ্ত বই ও লাইব্রেরি নেই, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও সীমিত। পাবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যদি একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আশপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাসের পাঠ দেন, তবে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি এবং আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নাগরিক। সেই ভিত্তি যত মজবুত হবে, ভবিষ্যৎও তত বেশি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে।
kalprakash.com/IM