রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:৩৪:৩০

৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবনের দ্বার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮
শেয়ার: mail
৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবনের দ্বার

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও জেলে ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। একই সঙ্গে বন বিভাগের নির্দেশিত নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে বনাঞ্চলে প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সুন্দরবন কেবল অনন্য জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, এটি দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্যসম্পদেরও উৎস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে বননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফরেস্ট স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মাছের প্রজনন মৌসুম ও বন্যপ্রাণীসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বন বিভাগ। এ সময় বন অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

টানা তিন মাসের এ নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিলেন উপকূলের বননির্ভর প্রান্তিক মানুষ। জেলে আয়ুব আলী, ইসমাইল হোসেন ও সুবোল মুন্ডা জানান, কর্মহীন সময়ে পরিবার নিয়ে সংসার চালাতে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বন উন্মুক্ত হওয়ার খবরে আবারও ধারদেনা করে নৌকা ও জাল মেরামত করছেন তারা, যাতে দ্রুত সুন্দরবনে গিয়ে মাছ-কাঁকড়া ধরে দেনা শোধ করতে পারেন।

শুধু জেলেরাই নন, পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত ট্রলারচালক ও নৌ-শ্রমিকরাও দীর্ঘ সময় ধরে কর্মহীন ছিলেন। নীলডুমুর ট্রলার মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পাঁচ শতাধিক ট্রলার পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় চালক ও শ্রমিকদের অনেককেই ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় জেলেদের দাবি, সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা স্থায়ীভাবে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত থাকায় সীমিত পরিসরে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র নিষিদ্ধ এলাকায় বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও হরিণ শিকারের ফাঁদ পাতে। তাদের মতে, জীবিকার স্বার্থে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য অন্তত ৬০ শতাংশ এলাকা উন্মুক্ত রাখা হলে একদিকে সাধারণ জেলেদের জীবিকা রক্ষা পাবে, অন্যদিকে অবৈধ শিকারের প্রবণতাও কমে আসবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবনের দ্বার

বিস্তারিত কমেন্টে