কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার খান সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুলহান বিউটি পার্লার’ (Dulhan Beauty Spa)-এ বকেয়া বেতন চাওয়াকে কেন্দ্র করে রুনা (২১) নামের এক সাবেক নারী কর্মচারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি, মোবাইল ছিনতাই ও জোরপূর্বক অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পার্লার মালিক ও তার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলার আজিয়াপাড়া গ্রামের মো. ফাহিমের স্ত্রী রুনা গত দুই বছর ধরে দেবিদ্বারের দুলহান বিউটি পার্লারে আট হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ করতেন এবং সেখানেই অবস্থান করতেন। দুই মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে পার্লার মালিক মোসা. শিবলী আক্তার (৪০) তার দুই মাসের বেতন বকেয়া রেখে আটকে দেন।
গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ভুক্তভোগী রুনা তার বকেয়া বেতন চাইতে পার্লারে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পার্লার মালিক শিবলী আক্তারের নির্দেশে পার্লারের দুই কর্মচারী মোসা. আয়েশা আক্তার (৩৬) ও রেশমা আক্তার (৩৫) তাকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও জখম হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্ত রেশমা আক্তার ভুক্তভোগীর কাছে থাকা আনুমানিক আট হাজার টাকা মূল্যের একটি আইটেল (itel) মোবাইল ফোন (সিম নম্বর: ০১৭৯৬১৩২৯৩০) ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে পার্লার মালিক শিবলী আক্তার বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেন।
অভিযোগের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো, মারধরের ঘটনাটি পার্লার মালিক শিবলী আক্তার তার Dulhan Beauty Spa নামের ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি লাইভ প্রচার করেন এবং পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে পার্লার থেকে বের করে দেন। ওই লাইভ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং সামাজিকভাবে চরম অপদস্থ হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী রুনা দেবিদ্বার থানায় উপস্থিত হয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আইনগত প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
kalprakash.com/IM