সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:১২:৫৭

বিদেশে চাকরির নামে ৭ লাখ টাকা ও জমি আত্মসাৎ, উল্টো হুমকিতে ঘরছাড়া নাটোরের সাইফুল

মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৯
শেয়ার: mail
বিদেশে চাকরির নামে ৭ লাখ টাকা ও জমি আত্মসাৎ, উল্টো হুমকিতে ঘরছাড়া নাটোরের সাইফুল

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ভাগ্য ফেরানোর আশায় সৌদি আরবে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার মো. সাইফুল ইসলাম। ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভনে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৪২ শতক জমি হারিয়ে দেশে ফেরার পর এখন উল্টো হামলার ভয়ে তিনি ঘরছাড়া।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর দহপাড়া গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই প্রতারণা ও নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম জানান, কালিকাপুর দহপাড়া গ্রামের মৃত কালাচাঁদের ছেলে প্রবাসী শাকিল আলী তাকে সৌদি আরবের একটি চকলেট কোম্পানিতে মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান। সেই আশ্বাসে তিনি বিভিন্ন সময়ে শাকিলের হাতে নগদ ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন। শুধু তাই নয়, বজরাপুর মৌজার নিজ নামের ৪২ শতক ধানি জমিও ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে কট বন্ধক হিসেবে লিখে দেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি ফ্লাইটে সাইফুলকে সৌদি আরবে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তাকে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে একটি কক্ষে প্রায় এক মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময়ে দেশে থাকা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে পরিবার থেকে প্রবাসে থাকা স্থানীয় এক প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্দীদশা থেকে তাকে মুক্ত করা হয়।

সাইফুল বলেন, বন্দী অবস্থায় আমাকে ঠিকমতো খাবার বা পানি দেওয়া হতো না। সেখানে আমার ওপর প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এমন দিনও গেছে, যখন বাঁচার জন্য আমাকে টয়লেটের পানি পান করতে হয়েছে।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) তৈরি করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিন মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সেখানকার পুলিশ তাকে আটক করে গত ২২ জুন দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

দেশে ফিরে সাইফুল তার দেওয়া টাকা ও বন্ধক রাখা জমি ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা উল্টো তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। সাইফুলের অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট অভিযুক্তরা তার বাড়িতে এসে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর দুদিন পর ১৪ আগস্ট কয়েকজন ভাড়াটে লোক নিয়ে তার বাড়িতে হামলার চেষ্টাও করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে নিয়ে এএসআই দুলালের উপস্থিতিতে তাকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী সাইফুল বলেন, পরিবারের ভাগ্য বদলাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছি। এখন দেশে ফিরে নিজের টাকা ও জমি চাইতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়েছি।

তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হাতিয়ে নেওয়া টাকা ও জমি ফেরত এবং দালাল শাকিল আলীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বলেন, আমি সাইফুল ইসলামের জমির বন্ধকনামায় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলাম, তবে আর্থিক লেনদেনের সময় উপস্থিত ছিলাম না। বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই সাইফুল জমিটি বন্ধক দিয়েছিলেন। এছাড়া থানায় সালিশ ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনার সত্যতাও তিনি স্বীকার করেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, রোববার (৩০ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বিদেশে চাকরির নামে ৭ লাখ টাকা ও জমি আত্মসাৎ, উল্টো হুমকিতে ঘরছাড়া নাটোরের সাইফুল

বিস্তারিত কমেন্টে