ছোট শিশুদের ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে লালা পড়া স্বাভাবিক হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত অতিরিক্ত লালা ঝরলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা চলার পেছনে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা থাকতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের মধ্যে নিয়মিত লালা ঝরার সঙ্গে নাক বা মুখের অ্যালার্জি, অ্যাসিডিটি ও মুখের সংক্রমণসহ নানা সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি স্নায়বিক সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।
যেসব কারণে ঘুমের মধ্যে লালা ঝরতে পারে:
-
অ্যালার্জি: নাক বা মুখে অ্যালার্জি হলে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে। এছাড়া নাক বন্ধ থাকার কারণে অনেকে ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেন, যা লালা পড়ার অন্যতম কারণ।
-
পেশির শিথিলতা ও ঘুমের সমস্যা: ঘুমের সময় মুখের পেশি অতিরিক্ত শিথিল হয়ে যাওয়ার কারণে লালা মুখের বাইরে চলে আসতে পারে।
-
সাইনাসের সমস্যা: সাইনাসের জটিলতায় নাক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ফলে ঘুমের মধ্যে লালা ঝরতে পারে।
-
অ্যাসিডিটি বা অতিরিক্ত গ্যাস: পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণেও মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে।
-
মুখের সংক্রমণ: দাঁত, মাড়ি কিংবা মুখের ভেতরে কোনো ধরনের সংক্রমণ থাকলেও লালা ঝরার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
-
স্নায়বিক সমস্যা: কিছু স্নায়বিক রোগে মুখের পেশির নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় লালা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে সেরিব্রাল পালসি এবং বড়দের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের রোগীদের মধ্যেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা যেতে পারে।
লালা ঝরা কমাতে করণীয়:
ঘুমের মধ্যে লালা পড়ার সমস্যা কমাতে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। রাতে ঘুমানোর আগে ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ ও মুখ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
ঘুমানোর সময় মাথার নিচে বালিশ দিয়ে মাথা কিছুটা উঁচু রাখলেও সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত মাত্রায় লালা ঝরলে কেবল ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ মূল কারণ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই এ সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
kalprakash.com/IM