অপহরণের পর নৃশংস নির্যাতন চালিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দীর্ঘ ৫৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে প্রাণ হারালেন ভারতের পাঞ্জাবের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর (২৮)। গত ২৬ আগস্ট চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই রাতে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ এলাকা থেকে মনজিৎকে অপহরণ করা হয়। নিহত তরুণীর মা কান্তা দেবীর দায়ের করা অভিযোগে শুভি ও পিন্ডার নামের দুই পরিচিত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে সেক্টর ৩৪-এর একটি মদের দোকানের কাছে গিয়েছিলেন মনজিৎ। সেখান থেকেই তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরবর্তীকালে তাকে মোরিন্ডার কাছে একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এক পরিচিত ব্যক্তি অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে মোরিন্ডা এবং পরবর্তীতে মোহালির হাসপাতালে চিকিৎসার পর ৯ জুলাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ আগস্ট কিছু সময়ের জন্য মনজিতের জ্ঞান ফিরেছিল এবং তিনি পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে তার আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়নি বলে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তরুণীর মৃত্যুর পর চণ্ডীগড় পুলিশ অপহরণ ও হত্যাসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত শুভি ও পিন্ডারের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এই নৃশংস হামলার পেছনের কারণ, এতে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
kalprakash.com/IM