সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৪:১২:২৫

নেপালে ভয়াবহ বন্যার আগে হিমবাহ ধসের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত ধরা পড়ল ড্রোনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৯
শেয়ার: mail
নেপালে ভয়াবহ বন্যার আগে হিমবাহ ধসের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত ধরা পড়ল ড্রোনে

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঠিক পূর্বমুহূর্তে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বিশালাকার হিমবাহ ও শিলাস্তর ধসে পড়ার এক রুদ্ধশ্বাস ও ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়েছে ড্রোন ক্যামেরায়। দুর্ঘটনাবশত ধারণ করা ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, চোখের পলকে পাহাড়ের সুবিশাল অংশ ভেঙে ধুলোর বিশাল স্তম্ভ তৈরি করে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের তীব্র স্রোত উপত্যকার দিকে আছড়ে পড়ছে।

গত সপ্তাহে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে এই প্রলয়ংকরী হিমবাহ ধসকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। গত ২৬ আগস্টের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত নেপালে ৯০৩ জন এবং তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া এখনো সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই নেপালের নাগরিক।

চীনা এক আলোকচিত্রীর ড্রোন ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে দেখা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ২০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের কাছে একটি পাহাড়ি ঢাল থেকে বরফ ও শিলাস্তরের বিশাল একটি খণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে উপত্যকায় তীব্র বেগে আছড়ে পড়ে। এই তীব্র আঘাতে উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয় এবং পানির স্তর নিমেষেই বিপজ্জনক উচ্চতায় পৌঁছে বিস্তীর্ণ এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ একে দেশের ইতিহাসে এক ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক বিপর্যয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং অব্যাহত ঝুঁকির কারণে উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে নাগরিকদের জীবন রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের হিমবাহ ও শিলাধসের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এর আগে ২০২১ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডে এবং ২০২৩ সালে সিকিমের দক্ষিণ লোনাক হ্রদে একই ধরনের হিমবাহ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি ২০২৫ সালে সুইস আল্পসের বার্চ হিমবাহ ধসেও বিস্তীর্ণ জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একের পর এক এমন বিপর্যয় হিমালয়সহ বিশ্বের পার্বত্য অঞ্চলের দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ঝুঁকির চরম চিত্রকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

নেপালে ভয়াবহ বন্যার আগে হিমবাহ ধসের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত ধরা পড়ল ড্রোনে

বিস্তারিত কমেন্টে