পার্বত্য চট্টগ্রামে বাজারফান্ড এলাকায় দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বন্ধ থাকা ভূমি হস্তান্তর, বন্ধকি দলিল রেজিস্ট্রি ও ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম অবিলম্বে চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসমূহ।
শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় রাঙামাটি শহরের হ্যাপি মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বনরূপা পুলিশ বক্সের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজমের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. রেজাউল করিম মাস্টার, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ, বান্দরবান জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি মোরশেদা আক্তার, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় কয়েক বছর ধরে বাজারফান্ড জমি নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজারফান্ডের জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিতে না পারায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা তীব্র অর্থসংকটে ভুগছেন। এতে ব্যবসার পরিধি সংকুচিত হচ্ছে, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সমাবেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে রাঙামাটির তৎকালীন জেলা প্রশাসক প্রথমবার বাজারফান্ড এলাকার ভূমি রেজিস্ট্রির মিউটেশন মামলা স্থগিত করেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা পুনরায় চালু হলেও ২০১৯ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ জটিলতা নিরসন না করা হলে তিন পার্বত্য জেলায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বক্তারা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—বাজারফান্ড প্লটের লিজের মেয়াদ ৯৯ বছরে উন্নীত করা ও বন্ধ থাকা ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালু করা; জমি ক্রয়-বিক্রয় বা নামজারির ক্ষেত্রে তিন দফা এলআর ফান্ড প্রথা বাতিল করে দেশের অন্য ৬১ জেলার মতো একক ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা; জমি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা, চাকরি ও শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে সার্কেল চিফের সনদ প্রথা বাতিল করা; হেডম্যান কার্যালয়ের পরিবর্তে উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমির খাজনা পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যাহারকৃত সেনা ব্রিগেড ও ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করা।
kalprakash.com/IM