মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | বিকাল ৪:৪০:৪০

জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটিতে ছাত্রদল নেতার হস্তক্ষেপের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৯
শেয়ার: mail
জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটিতে ছাত্রদল নেতার হস্তক্ষেপের অভিযোগ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের বিরুদ্ধে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি’র কার্যক্রমে অবৈধ হস্তক্ষেপ ও নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে জানা যায়, সুমন সরদারের অনুসারী ও জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউল্লাহ আহাদকে—যিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করা হচ্ছে—সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বানানোর চেষ্টা চলছে।

জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির কয়েকজন সদস্য জানান, সংগঠনে একটি বৈধ কমিটি থাকা সত্ত্বেও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পৃথক একটি নতুন কমিটি ঘোষণার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ওই নতুন কমিটিতে ছাত্রদলের পদধারী নেতা আতাউল্লাহ আহাদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখার ছক কাটা হয়েছে। এমনকি সংগঠন থেকে আগে বহিষ্কৃত এক সাবেক নেতার মাধ্যমে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি একপ্রকার স্বীকারই করে নেন অভিযুক্ত সুমন সরদার। জবি ছাত্রদলের এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, “এরা আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই, ছাত্রদলের নেতা। আমি বললে তারা এখনই পদ থেকে সরে যাবে। এরা সবাই আমার নিয়ন্ত্রণে আছে।” একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হয়ে সাংবাদিক সংগঠনে এমন সরাসরি হস্তক্ষেপের এখতিয়ার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, এ বিষয়ে আমাকে কেউ নির্দেশ দেয়নি। তবে আমি বললে তারা এখনই বসে যাবে।”

এদিকে জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রতিবাদ করায় সুমন সরদার তাঁদের ‘শিবির’ ও ‘ছাত্রলীগ’ বানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন।

সুমন সরদারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ‘মব’ তৈরি এবং মামলার ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন এই ছাত্রদল নেতা। ২০২৫ সালের মার্চে চাঁদা তোলার অভিযোগে সুমন সরদারকে এক মাসের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জবি ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেন, সুমন সরদারের একের পর এক অপকর্মের কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব সামসুল আরেফিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “সুমন সরদারের বিরুদ্ধে যেসব ব্যক্তিগত অভিযোগ উঠেছে, তার কোনো দায়ভার জবি ছাত্রদল নেবে না।”

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward