বাংলাদেশ ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ Logo নওগাঁয় জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, নারীসহ আহত ৪ Logo গঙ্গাচড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষা উপকরণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা Logo এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান Logo আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে বিপর্যয়, ভেঙে পড়ল ব্রিজঘাটা সেতু

টানা ছয় দিনের অতি ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রাঙামাটি–বান্দরবান সড়কের ব্রিজঘাটা সেতুর দক্ষিণ পাশের একটি পিলার শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শনিবার সকালে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ায় এ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, ভারী বর্ষণের ফলে রাজস্থলী উপজেলার প্রধান সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হাসানের নির্দেশনায় উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত সড়কে জমে থাকা মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শত শত হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৫ হাজার পরিবারের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বন্যার পাশাপাশি জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। বাঘাইছড়ি–দীঘিনালা আঞ্চলিক সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় পাহাড়ধস ও সড়ক ধসে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া লংগদু–দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থান প্লাবিত হওয়ায় লংগদুর সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হলেও দুর্গম প্লাবিত এলাকাগুলোতে এখনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে এ পর্যন্ত ১০৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্গতদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও শুকনো ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে রাঙামাটির ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৫০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে আগামী রোববার থেকে বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে এই খাদ্যশস্য বিতরণ শুরু হবে।

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে বিপর্যয়, ভেঙে পড়ল ব্রিজঘাটা সেতু

প্রকাশিত: ১১:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা ছয় দিনের অতি ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রাঙামাটি–বান্দরবান সড়কের ব্রিজঘাটা সেতুর দক্ষিণ পাশের একটি পিলার শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শনিবার সকালে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ায় এ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, ভারী বর্ষণের ফলে রাজস্থলী উপজেলার প্রধান সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হাসানের নির্দেশনায় উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত সড়কে জমে থাকা মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শত শত হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৫ হাজার পরিবারের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বন্যার পাশাপাশি জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। বাঘাইছড়ি–দীঘিনালা আঞ্চলিক সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় পাহাড়ধস ও সড়ক ধসে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া লংগদু–দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থান প্লাবিত হওয়ায় লংগদুর সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হলেও দুর্গম প্লাবিত এলাকাগুলোতে এখনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে এ পর্যন্ত ১০৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্গতদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও শুকনো ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে রাঙামাটির ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৫০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে আগামী রোববার থেকে বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে এই খাদ্যশস্য বিতরণ শুরু হবে।

kalprakash.com/IM