বাংলাদেশ ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ Logo নওগাঁয় জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, নারীসহ আহত ৪ Logo গঙ্গাচড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষা উপকরণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা Logo এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান Logo আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম

দমন-পীড়নের রাজনীতি ফিরলে আবারও ১৬ জুলাইয়ের মতো প্রতিরোধ: সারজিস আলম

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বা ছাত্রদল অতীতের ছাত্রলীগের মতো দমন-পীড়নের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে গেলে বা কেউ যদি সেই পথে হাঁটার চেষ্টা করে, তবে আবারও ১৬ জুলাইয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে রাজশাহীতে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হলে থাকতে হলে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বা গেস্টরুম সংস্কৃতির শিকার হতে হতো। এটি শুধু একটি দলের সমর্থকদের নয়, ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদেরও সহ্য করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জোরপূর্বক কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য করা যাবে না—এমন পরিবেশই তিনি প্রত্যাশা করেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় গুজব বা অপপ্রচারের পরিবর্তে তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও জবাবদিহির মধ্যে রাখা সহজ হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। শুরুতে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অনেকের সঙ্গেই তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। ১৭ জুলাই ক্যাম্পাস ছাড়ার পর তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন এবং পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, তার কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; বরং মানুষের বিবেকের তাড়নায় সাধারণ শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, নেতৃত্বের দায়িত্ব এমন ব্যক্তিদেরই দেওয়া হয়, যাঁদের প্রতি ন্যূনতম আস্থা ও পরিচিতি থাকে। কারও সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাস তৈরি হওয়ার পরই সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব। ৫ আগস্টের পর অনেকেই নিজেদের আন্দোলনের বড় অংশীদার হিসেবে দাবি করলেও প্রকৃত কর্মীদের অনেকেই আড়ালে থেকে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটি জীবন্ত ইতিহাস। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ড. শামসুজ্জোহা শিক্ষার্থীদের রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদও তাঁকে স্মরণ করে লিখেছিলেন, স্যার, আজকে আপনার মতো কাউকে খুব প্রয়োজন ছিল। এই দুই সময়ের মিল ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এনসিপির অনুপ্রেরণাও এখানেই—কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সন্তানরাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে।

মতবিনিময় সভায় এনসিপির নেতৃবৃন্দসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

 

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’

দমন-পীড়নের রাজনীতি ফিরলে আবারও ১৬ জুলাইয়ের মতো প্রতিরোধ: সারজিস আলম

প্রকাশিত: ০২:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বা ছাত্রদল অতীতের ছাত্রলীগের মতো দমন-পীড়নের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে গেলে বা কেউ যদি সেই পথে হাঁটার চেষ্টা করে, তবে আবারও ১৬ জুলাইয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে রাজশাহীতে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হলে থাকতে হলে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বা গেস্টরুম সংস্কৃতির শিকার হতে হতো। এটি শুধু একটি দলের সমর্থকদের নয়, ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদেরও সহ্য করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জোরপূর্বক কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য করা যাবে না—এমন পরিবেশই তিনি প্রত্যাশা করেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় গুজব বা অপপ্রচারের পরিবর্তে তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও জবাবদিহির মধ্যে রাখা সহজ হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। শুরুতে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অনেকের সঙ্গেই তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। ১৭ জুলাই ক্যাম্পাস ছাড়ার পর তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন এবং পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, তার কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; বরং মানুষের বিবেকের তাড়নায় সাধারণ শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, নেতৃত্বের দায়িত্ব এমন ব্যক্তিদেরই দেওয়া হয়, যাঁদের প্রতি ন্যূনতম আস্থা ও পরিচিতি থাকে। কারও সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাস তৈরি হওয়ার পরই সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব। ৫ আগস্টের পর অনেকেই নিজেদের আন্দোলনের বড় অংশীদার হিসেবে দাবি করলেও প্রকৃত কর্মীদের অনেকেই আড়ালে থেকে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটি জীবন্ত ইতিহাস। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ড. শামসুজ্জোহা শিক্ষার্থীদের রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদও তাঁকে স্মরণ করে লিখেছিলেন, স্যার, আজকে আপনার মতো কাউকে খুব প্রয়োজন ছিল। এই দুই সময়ের মিল ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এনসিপির অনুপ্রেরণাও এখানেই—কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সন্তানরাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে।

মতবিনিময় সভায় এনসিপির নেতৃবৃন্দসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

 

kalprakash.com/IM