নদ-নদী বেষ্টিত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়ে যায় বন্যার শঙ্কা। সেই বাস্তবতায় দুর্যোগের আগেই জনসচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়াতে তিস্তা নদীর তীরে আয়োজন করা হয়েছে বন্যা মোকাবিলার বাস্তবধর্মী মহড়া।
‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (৯ জুলাই) উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বালুরচর-ছাটগ্রাম এলাকায় দিনব্যাপী এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
চন্ডিপুর ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে, জেড জুরিখ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সহযোগিতায় গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) বাস্তবায়িত ‘জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যালায়েন্স সহযোগিতা করে।
মহড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। পুরো আয়োজনজুড়ে বাস্তব বন্যা পরিস্থিতির অনুকরণে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করা হয়। ভেলায় করে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উদ্ধারের কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
এছাড়া বন্যার আগাম সতর্কতা প্রচার, দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সংরক্ষণ, গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, দুর্যোগ-পরবর্তী স্বাস্থ্যবিধি এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানোর বিভিন্ন বাস্তব কৌশলও প্রদর্শন করা হয়।
মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইফফাত জাহান তুলি।
চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মেহেদী মোস্তফা মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শারিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোজাম্মেল হক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাধব আলী, কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্ত শামীম, ইউপি সদস্য রঞ্জু মিয়া এবং জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের প্রধান সমন্বয়কারী জয়া প্রসাদ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু ত্রাণের ওপর নির্ভর না করে আগাম প্রস্তুতি, স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
তারা আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ যত বাড়বে, ক্ষয়ক্ষতি তত কমানো সম্ভব হবে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি দুর্যোগ-সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও ইউনিয়ন পর্যায়ে এ ধরনের ব্যবহারিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, যাতে দুর্যোগের সময় মানুষ নিজের পাশাপাশি অন্যের জীবন ও সম্পদ রক্ষায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 






















