হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ফসলের ক্ষতি কমাতে আগাম পাকে এমন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং কৃষকদের বাজার সুবিধা বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের ধান উৎপাদনে হাওর অঞ্চলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিবছর আকস্মিক বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে পাকে এমন ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। এতে আগাম ধান কাটা সম্ভব হলে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যাবে।
মন্ত্রী জানান, পানিতে ডুবে থাকা জমি থেকেও ধান কাটতে সক্ষম আধুনিক হারভেস্টিং মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।
ইলিশ সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে জাটকা নিধন রোধে জেলেদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। দাদননির্ভরতা কমিয়ে জেলেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা গেলে ইলিশ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু দেশের চাহিদা পূরণ নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি ইলিশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কৃষিপণ্যের অপচয় কমাতে সারাদেশে ইউনিয়নভিত্তিক মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর ফলে কৃষকদের সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় কমবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে।
এ ছাড়া কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।
অনলাইন ডেস্ক 






















