চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) অভিযোগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) উদ্যোগ নিলেও, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতজুড়ে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে সীমান্তের ভারতীয় অংশে হঠাৎ নিরাপত্তা বাতি নিভিয়ে দেওয়া হয়। এতে সন্দেহের সৃষ্টি হলে মাইকিং করে গ্রামবাসীকে সতর্ক করা হয়। পরে পাঁচ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। একই সময়ে বিজিবির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামবাসী ও বিজিবির উপস্থিতি এবং প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ পুনরায় সীমান্তের আলো জ্বালায়। তখন সীমান্তের ওপারে বিএসএফের কয়েকটি যানবাহন এবং সাদাপোশাকে কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় রাতভর সীমান্তে পাহারা দেন বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিএসএসএফ পুশ-ইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয় বলে দাবি করা হয়।
শনিবার সকালে ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের একটি চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
বিজিবির তথ্যমতে, ভারতের ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মল্লিক সুলতানপুর ক্যাম্পের অধীন সীমান্ত পিলার ১৮৩/৩-এস এলাকার কাছে সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি বন্ধ করা হয়। একই সময়ে ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজনের সমাবেশ লক্ষ্য করলে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয়। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের নিজেদের গাড়িতে করে মালদাহ হোল্ডার সেন্টারে নিয়ে যায়।
৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। তিনি জানান, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনলাইন ডেস্ক 





















