বাংলাদেশ ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

  • জাতীয় ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ১২:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • 22

শিশুর জন্মের পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি’। এই আইডির মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমিসেবা, বিআরটিএসহ সব ধরনের সরকারি সেবা ও তথ্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনায় ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একীভূত করে একটি সমন্বিত সিস্টেমে আনা হবে। ফলে নাগরিককে আর আলাদা আলাদা দপ্তরে একই তথ্য বারবার জমা দিতে হবে না।

একটি মাত্র ডিজিটাল আইডির মাধ্যমেই নাগরিকরা সরকারি সব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্পের ধারণা অনুযায়ী, হাসপাতালে শিশুর জন্ম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার তথ্য জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। এরপর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি করা হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও আলাদা প্রক্রিয়া থাকবে।

প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, সরকারি নথি ও ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনে এটি পরিচয় যাচাই ও সরকারি সেবা গ্রহণে ফিজিক্যাল ডকুমেন্টের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের সম্মতি (কনসেন্ট) ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। পুরো ব্যবস্থা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হবে।

বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রেজিলিয়ান্স) প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ সম্প্রতি জানান, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গঠনের কাজ শুরু হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিকরা একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন।

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
এক আইডিতে মিলবে সব সেবা
জনপ্রিয় সংবাদ

এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

প্রকাশিত: ১২:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

শিশুর জন্মের পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি’। এই আইডির মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমিসেবা, বিআরটিএসহ সব ধরনের সরকারি সেবা ও তথ্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনায় ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একীভূত করে একটি সমন্বিত সিস্টেমে আনা হবে। ফলে নাগরিককে আর আলাদা আলাদা দপ্তরে একই তথ্য বারবার জমা দিতে হবে না।

একটি মাত্র ডিজিটাল আইডির মাধ্যমেই নাগরিকরা সরকারি সব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্পের ধারণা অনুযায়ী, হাসপাতালে শিশুর জন্ম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার তথ্য জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। এরপর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি করা হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও আলাদা প্রক্রিয়া থাকবে।

প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, সরকারি নথি ও ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনে এটি পরিচয় যাচাই ও সরকারি সেবা গ্রহণে ফিজিক্যাল ডকুমেন্টের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের সম্মতি (কনসেন্ট) ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। পুরো ব্যবস্থা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হবে।

বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রেজিলিয়ান্স) প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ সম্প্রতি জানান, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গঠনের কাজ শুরু হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিকরা একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন।

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
এক আইডিতে মিলবে সব সেবা