বাংলাদেশ ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

৩ হাজার ৮৮০ কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

যশোরের মণিরামপুরে চলতি খরিফ-২ মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে ৩ হাজার ৮৮০ জন কৃষকের মাঝে উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, রাসায়নিক সার এবং বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি।

কৃষি বিভাগ জানায়, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ৮৮০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষের উপযোগী উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি (DAP) এবং ১০ কেজি এমওপি (MoP) সার প্রদান করা হয়।

এছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার ৮৩০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ২৫০টি লেবুর চারা এবং প্রতি পাঁচটি লেবুর চারার সঙ্গে ৪০ কেজি ট্রাইকো কম্পোস্ট জৈব সারও কৃষকদের দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকারের এ ধরনের প্রণোদনা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি বলেন, “প্রকৃত কৃষকের দোরগোড়ায় সরকারি কৃষিসেবা পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি পরিবারকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করার আহ্বান জানাই।”

অনুষ্ঠানে উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহনাজ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শাহারিয়া হোসেন, উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ ঘোষ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাশ, মোজাফফর হোসেন, অচিন্ত্য ভৌমিক, হিরামন সরকার, হাফিজুর রহমান এবং সফল কৃষক প্রতিনিধি খলিলুর রহমানসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রণোদনা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন হাকোবা গ্রামের কৃষক আজগর আলী। তিনি বলেন, “সরকারি এ সহায়তায় বীজ ও সার কেনার খরচ কমবে। ফলে জমির পরিচর্যায় আরও বেশি বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিতরণ করা গাছের চারাগুলো ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পারিবারিক আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

পরে অতিথিরা কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ, সার ও গাছের চারা তুলে দেন।

বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
৩ হাজার ৮৮০ কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ
জনপ্রিয় সংবাদ

৩ হাজার ৮৮০ কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

প্রকাশিত: ১১:২৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

যশোরের মণিরামপুরে চলতি খরিফ-২ মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে ৩ হাজার ৮৮০ জন কৃষকের মাঝে উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, রাসায়নিক সার এবং বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি।

কৃষি বিভাগ জানায়, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ৮৮০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষের উপযোগী উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি (DAP) এবং ১০ কেজি এমওপি (MoP) সার প্রদান করা হয়।

এছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার ৮৩০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ২৫০টি লেবুর চারা এবং প্রতি পাঁচটি লেবুর চারার সঙ্গে ৪০ কেজি ট্রাইকো কম্পোস্ট জৈব সারও কৃষকদের দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকারের এ ধরনের প্রণোদনা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি বলেন, “প্রকৃত কৃষকের দোরগোড়ায় সরকারি কৃষিসেবা পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি পরিবারকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করার আহ্বান জানাই।”

অনুষ্ঠানে উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহনাজ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শাহারিয়া হোসেন, উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ ঘোষ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাশ, মোজাফফর হোসেন, অচিন্ত্য ভৌমিক, হিরামন সরকার, হাফিজুর রহমান এবং সফল কৃষক প্রতিনিধি খলিলুর রহমানসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রণোদনা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন হাকোবা গ্রামের কৃষক আজগর আলী। তিনি বলেন, “সরকারি এ সহায়তায় বীজ ও সার কেনার খরচ কমবে। ফলে জমির পরিচর্যায় আরও বেশি বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিতরণ করা গাছের চারাগুলো ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পারিবারিক আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

পরে অতিথিরা কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ, সার ও গাছের চারা তুলে দেন।

বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
৩ হাজার ৮৮০ কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ