মুসলিম ধর্মীয় ঐতিহ্যে রহস্যময় এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত খিজির (আ.)-কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও বিশ্বাস প্রচলিত আছে। বিশেষ করে তিনি নবী ছিলেন কি না, এখনো জীবিত আছেন কি না—এ ধরনের প্রশ্ন নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পবিত্র কোরআনের সুরা কাহফ-এ আল্লাহর এক বিশেষ বান্দার কথা উল্লেখ রয়েছে, যাকে অসাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করা হয়েছিল। হজরত মুসা (আ.)-এর সঙ্গে তার ঘটনাটি ইসলামী শিক্ষায় ধৈর্য ও জ্ঞানের গভীর দিক তুলে ধরে।
খিজির (আ.) নবী না ওলি?
বিভিন্ন ইসলামী আলেমদের মতে, খিজির (আ.) নবী নন; বরং তিনি আল্লাহর একজন নেককার বান্দা বা ওলি ছিলেন, যাকে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছিল।
তিনি কি এখনো জীবিত?
এ বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও বহু গবেষক আলেমের মতে, খিজির (আ.) বর্তমানে জীবিত নন। তারা সুরা আম্বিয়া-এর আয়াত এবং হাদিসের ব্যাখ্যা উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবীতে কোনো মানুষ চিরজীবী নয়।
এ বিষয়ে ইমাম বুখারিসহ অনেক মুহাদ্দিসের বক্তব্যে বলা হয়েছে, খিজির (আ.) জীবিত আছেন—এমন দাবির পক্ষে সহিহ ও নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।
সাক্ষাতের দাবির বিষয়ে মতামত
অনেক বুজুর্গ ব্যক্তি খিজির (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি করলেও, ইসলামী গবেষকদের মতে এসব দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোরআন বা সহিহ হাদিসভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।
মূল শিক্ষা
আলেমদের মতে, কোরআনে খিজির (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ যে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উদাহরণ দিয়েছেন, সেটিই মূল শিক্ষা। তবে তার বর্তমান জীবন, অবস্থান বা আত্মপ্রকাশ নিয়ে নিশ্চিত কোনো দলিল নেই।
অনলাইন ডেস্ক 






















