দেশের স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত ও বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়কে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন স্বাস্থ্য ইউনিট স্থাপন করা হবে। এসব ইউনিটে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরি বিভাগ, ইনডোর-আউটডোর সেবা, আইসিইউ সুবিধা এবং আধুনিক প্যাথলজি সেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে প্রতিটি হাসপাতালে নারী ও পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে।
জেলা হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়, প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ গঠন এবং ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার (হেলথ স্ক্রিনিং) কার্যক্রম চালু করা হবে।
এছাড়া “সবার জন্য স্বাস্থ্য” নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
নাগরিকদের জন্য একটি ইলেকট্রনিক হেলথ (ই-হেলথ) কার্ড চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে যেকোনো হাসপাতালে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা তথ্য সহজেই দেখা যাবে। এ প্রকল্পের আওতায় পাঁচ জেলায় পাইলটভাবে ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে।
সরকারি পরিকল্পনায় আরও জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৫ হাজার চিকিৎসক এবং ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা প্রাপ্তি সহজ হবে।
অনলাইন ডেস্ক 
















