মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস এবং ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। হিজরি সন একটি চান্দ্রবর্ষভিত্তিক পঞ্জিকা, যার সূচনা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতকে কেন্দ্র করে।
দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর শাসনামলে ইসলামী খেলাফত আরব উপদ্বীপ ছাড়িয়ে রোম ও পারস্য পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তখন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজধানী মদিনা থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে চিঠিপত্র পাঠানো হতো এবং কর্মকর্তারাও প্রয়োজন অনুযায়ী খলিফার কাছে বার্তা পাঠাতেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট সাল-তারিখ না থাকায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হতো।
এই প্রেক্ষাপটে সাহাবায়ে কেরাম একটি স্বতন্ত্র সন প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। বিভিন্ন জাতির প্রচলিত পঞ্জিকা অনুসরণ না করে মহানবী (সা.)-এর হিজরতকে কেন্দ্র করে নতুন সাল গণনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সাহাবিদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে হিজরি সনের প্রচলন শুরু হয় এবং মহররমকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
মহররম নফল ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। বিশেষ করে ১০ মহররম, অর্থাৎ আশুরার দিন রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) মহররম মাসে অধিক ইবাদত, তওবা-ইসতিগফার এবং দান-সদকা করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যদি রমজানের পর আর কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও, তবে মহররম মাসে রোজা রাখো। কেননা এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ অনেকের তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও বহু মানুষের তওবা কবুল করবেন।” (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)
ইসলামী শিক্ষায় মহররম মাসজুড়ে বেশি বেশি নফল রোজা, তওবা-ইসতিগফার এবং নেক আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত ইসতিগফারের দোয়াগুলো অর্থ বুঝে পাঠ করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রমজানের ফরজ রোজার পর মহররম মাসের নফল রোজার মর্যাদা সর্বাধিক। মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরতের পর হজরত মুসা (আ.)-এর স্মরণে আশুরার রোজা পালনের নির্দেশ দেন। তিনি ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ অথবা ১১ মহররম মিলিয়ে রোজা রাখারও উৎসাহ প্রদান করেন।
তাই মহররম শুধু হিজরি নববর্ষের সূচনাই নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তওবা, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
—লেখক: ইসলামি গবেষক
অনলাইন ডেস্ক 






















