বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে এমন একজন গোলরক্ষক আছেন, যার নামের সঙ্গে রহস্য আর কিংবদন্তি—দুটিই জড়িয়ে গেছে। মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গুইয়ের্মো ওচোয়া আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। ৪০ বছর বয়সী এই তারকা এবার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিয়ে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে এক অনন্য রেকর্ডে নাম লেখাতে যাচ্ছেন।
মেসি ও রোনালদো দুজনই যেমন নিয়মিতভাবে তাদের জাতীয় দলের একাদশে জায়গা করে নেন, তেমনি ওচোয়ার ক্ষেত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মের কারণে তিনি প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক নন। ফলে এবারের বিশ্বকাপে তাকে হয়তো বেশিরভাগ সময়ই বেঞ্চে বসে কাটাতে হতে পারে। তবুও তার অভিজ্ঞতা ও অতীত পারফরম্যান্স তাকে দলে রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।
মেসি-রোনালদোর সঙ্গে এবার ওচোয়ার জন্য এটি হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এর আগে বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে কোনো ফুটবলারই ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়তে পারেননি। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই মেক্সিকোর গোলপোস্টে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
মেক্সিকো দলের দায়িত্বে আছেন হাভিয়ের আগুইরে, যিনি এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ডাগআউটে দাঁড়াতে যাচ্ছেন। এর আগে ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে তার অধীনে মেক্সিকো গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছিল। এবার স্বাগতিক হিসেবে তাদের লক্ষ্য আরও বড় সাফল্য অর্জন।
স্কোয়াডে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদেরও দারুণ মিশ্রণ দেখা গেছে। দলে আছেন ইংলিশ ক্লাব ফুলহ্যামের ফরোয়ার্ড রাউল হিমিনেজ এবং এসি মিলানের সান্তিয়াগো হিমিনেজ। পাশাপাশি স্পেন ও দক্ষিণ আমেরিকান বংশোদ্ভূত কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও জায়গা করে নিয়েছেন। সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা, যিনি মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বকাপ খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন।
আগামী বিশ্বকাপে মেক্সিকো খেলবে গ্রুপ ‘এ’-তে। তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। ১১ জুন অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে স্বাগতিকদের বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর ১৯ জুন দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২৫ জুন চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে মেক্সিকো।
kalprakash.com/SS
স্পোর্টস ডেস্ক 






















